পুলিশের রেশন ভাতা বাড়িয়ে আগেই সুখবর শুনিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাতে পুলিশমহলে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্যারা-টিচারদের জন্যও দুর্গাপুজোয় সুখবর দিয়েছে নয়া বিজেপি সরকার। এবার সেখানে যোগ করা হল সরকারি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের। এমনটা যে ঘটবে সেটা কেউ আশা করেননি। কিন্তু অক্টোবর মাসের শুরুতেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বাম্পার বোনাস নিয়ে এল সরকারি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য। আর তা জানাজানি হতেই নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা।
সরকারি হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা বছরে একমাস কাজ করলেই পাবেন দুর্গাপুজোর বোনাস। এবার থেকে আর্থিক বছরের মোট বেতন বা মজুরির ৮.৩৩% হারে টাকা বোনাস হিসেবে মেটানোর নির্দেশ দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। তবে স্বাস্থ্যদপ্তর যাতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় তার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোয় সকলে আনন্দ করবে আর সারাবছর যাঁরা সরকারি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কাজ করে থাকেন তাঁরা আনন্দ করবেন না! এমন কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন-নিরাপত্তা, সাফাই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং হাউসকিপিংয়ের কাজে নিযুক্ত কয়েক হাজার কর্মী। এইসব চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের এবার বোনাস মিলবে। নয়া নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, বছরের বেতন বা মজুরির ৮.৩৩ শতাংশ হারে তাঁদের বোনাস দেওয়া হবে। দুর্গাপুজো-ইদের আগে এই বাম্পার বোনাস পাবেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। ৩১ মার্চে শেষ হওয়া হিসাব অনুযায়ী আর্থিক বছরে অন্তত ৩০ দিন কাজ করেছেন এমন সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মী বোনাস পাওয়ার যোগ্য। তাই বোনাস মিলবে।
এই খবর এখন বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা হিসাব কষতে শুরু করেছেন। কে কত পাবেন? এই নিয়ে চলছে হিসাব। তার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোয় ঘোরার পরিকল্পনা। তবে নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে এজেন্সি কর্মীদের নিয়োগ করেছে, সেই এজেন্সিকেই প্রথমে বোনাসের টাকা দিতে হবে। পরে কর্মীদের বোনাস দেওয়ার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এজেন্সিকে সেই টাকা ফেরত দেবে হাসপাতাল। হাসপাতালের যে খাত থেকে কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, সেই একই খাত থেকে ওই টাকা মেটাতে হবে। এখানেই শেষ নয়, গত বছরগুলিতেও কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বকেয়া বোনাস প্রাপ্য থাকলে সেটিও মিটিয়ে দিতে হবে বলে নির্দেশে দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।




