এক বাঙালি নৌসেনাকর্মী হানিট্র্যাপের ফাঁদে পড়েন। আর সেই যৌনতায় বিভোর হয়ে দেশের প্রতিরক্ষার তথ্য পাচার করে দেন পাকিস্তানের গুপ্তচর বা গোয়েন্দাদের হাতে। যে পাকিস্তান ক্রমাগত ভারতের উপর আঘাত হানতে ব্যস্ত সেই শত্রু-দেশের হাতে তুলে দিলেন নিজের দেশের গোপন তথ্য! আশ্চর্য লাগলেও এটাই ঘটেছে বাস্তবে। আৎ এই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাচার করার অভিযোগে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই বাঙালি নৌসেনাকর্মীকে। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বাঙালি নৌসেনাকর্মী পশ্চিমবঙ্গেরই বাসিন্দা।
পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এই কাজের নেপথ্যে ছিল কিনা সেটা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারতের তথ্য জানতে পাকিস্তান নানা ছুতো করে চলেছে। আইএসআই নানা ফন্দি করে ভারতের ক্ষতি করতে কাজ করে চলেছে। সেখানে দেশের নৌসেনাকর্মী হয়ে পাকিস্তানের হাতে প্রতিরক্ষার তথ্য পাচার করে দিলে সেটা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বিপদ। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, ধৃত নৌসেনাকর্মীর নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল।
এই প্রদীপ মুখোপাধ্যায় একসপ্তাহ আগে কোয়েম্বাটুরের রেড ফিল্ডসে আইএনএস অগ্রণী-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেলের একটি দলও তামিলনাড়ুতে পৌঁছয়। আর নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট কোর্স কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। ২০১৪ সালে নৌসেনায় যোগ দিয়েছিলেন প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে তিনি কর্মরত ছিলেন। কদিন আগেপ্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলেন। কিন্তু গোপন কথা রইল না গোপনে। সবটাই ফাঁস হয়ে গেল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন আগে সমাজমাধ্যমে এক ‘লাস্যময়ী’র সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের। এই নারী পাকিস্তানের গোয়েন্দা চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে নিজের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তারপর থেকে প্রদীপের সঙ্গে অনলাইনে আলাপচারিতা এবং সেটা থেকে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। ওই যুবতী বিশ্বাস অর্জন করে ফেলেন প্রদীপের। তার পর নানা ছলে-বলে-কৌশলে প্রদীপকে যৌনতার জালে ফাঁসাতে শুরু করেন। আর সেভাবেই বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কৌশলগত সম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদীপের কাছ থেকে নিয়ে নেয় বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। ওই ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে তেমনই দাবি করা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স টিম জঙ্গি মডিউল, আন্তঃসীমান্ত চরবৃত্তি এবং উচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক নানা বিষয়ের উপর নজরদারি চালায়। আর সেখানেই এই নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায় এবং পাকিস্তানের ওই যুবতীর যাবতীয় গোপন কীর্তিকলাপ ধরা পড়ে। পাচার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ থেকেই প্রদীপের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। তাতেই ধরা পড়ে যান ওই বাঙালি নৌসেনাকর্মী। এখন তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদীপকে হেপাজতে নেওয়ার অনুমতি চায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। সেই অনুমতি পেয়েই তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রদীপকে।




