হাতে আর সময় বলতে তিনদিন। তারপরই রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। আগামী ৬ অক্টোবর মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। এখন জোরকদমে প্রচার করছে সব রাজনৈতিক দল। এবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি এখানে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত-সহায়ক প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামে প্রচারে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এখান থেকেই ঝড় তোলেন তিনি। একদিকে বিরোধীদের জামানত জব্দ করতে আহ্বান জানান অপরদিকে বড় চোর জেলে যাবে বলেও সুর চড়ান তিনি।
এদিন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে বিরুলিয়ার প্রচার সভা থেকে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জামানত জব্দ করার আবেদন করেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার প্রচারের মঞ্চ থেকে দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দাগেন তিনি। আর সুমিত রায়ের জেল যাত্রার ঘটনা টেনে এনে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ওই মন্তব্যের পর থেকেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। এখান থেকেই সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, ‘তৃণমূলের পাপের সীমা নেই। এমনভাবে ভোট করুন, যাতে এই ছিন্নমূলের লোকেদের প্রত্যেকের জামানত জব্দ হয়, একটারও যেন জমানত না থাকে।’
মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীর দিনে নির্বাচনী প্রচারমঞ্চ থেকেই ‘বড় চোর জেলে যাবে’ বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নন্দীগ্রাম আসন থেকে ২০২১ এবং ২০২৬ সালে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর ভবানীপুর ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন বলেই উপনির্বাচন হচ্ছে। এখানের নির্বাচনী প্রচার থেকে শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, ‘নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থীর সার্টিফিকেট নিতে গিয়েই বলেছিলাম তৃণমূলের নাম, নিশান থাকবে না। পিসি-ভাইপোর শুকনো ঘাস, জোড়াফুলের চিহ্ন কোনটাই নেই। অনেক চেষ্টা করেছিল ইভিএমে চোরামূলের লোকেরা। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি। সুমিত রায়রা জেলে গিয়েছে, এবার বড় চোরও জেলে যাবে।’
তাছাড়া এই বড় চোর কে? সেটা খোলসা করে বলেননি শুভেন্দু অধিকারী। তবে কংগ্রেস-সিপিএমের অস্তিত্ব সংকটের কথা তুলে ধরে নন্দীগ্রামের জনতার কাছে বড় মার্জিনে জেতার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী। মাত্র পাঁচ মাস সময়ে নতুন সরকারের আমলে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এখানেই শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘আমার সহকারী থাকার অপরাধে চন্দ্রনাথ রথকে খুনের গণতান্ত্রিক বদলা নিতে হবে আগামী ৬ তারিখ। আগে যা সাহায্য করতাম, তার তিনগুণ এখন করব। একুশে কোনও আশা না রেখেই আপনারা জিতিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে তাঁকেই আপনারা মুখ্যমন্ত্রী করে দিলেন। তাই চাইতে হবে কেন? আমি জানি কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়। কথা দিয়েছিলাম, আপনাদের ট্রেন চড়াব, কয়েক মাসে নন্দীগ্রাম-দেশপ্রাণ-বাজকোল ট্রেন চালিয়ে ছাড়ব।’




