• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

ভারতের কোচ খালিদকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানালেন ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি, কী কথা হল একে অপরের মধ্যে?

রাফিনহা না থাকায় আক্রমণভাগে এন্দ্রিক ও পেদ্রো—দু’জনকেই তিনি হাতে পাচ্ছেন। শনিবার তাঁদের মধ্যে কে খেলবেন, তা জানতে চাইলে

ভারতের কোচ খালিদকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানালেন ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি, কী কথা হল একে অপরের মধ্যে?

Ancelotti Hugs Indian Coach Khalid Photo-SNS

কার্লো আনসেলোত্তির সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতে না হতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চলে এলেন ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল। তা দেখে নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে খালিদকে অভিবাদন জানালেন ব্রাজিলের হেড কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। একসঙ্গে ছবি তুললেন, তার পরে একে অপরকে জড়িয়েও ধরলেন।

কী বললেন, ব্রাজিলের কোচ? খালিদকে সে কথা জিজ্ঞেস করতে তিনি বলেন, ‘সেরকম কিছু নয়। শুভেচ্ছা জানালেন, বললেন ভালো করে খেলো। ম্যাচের পরে কথা হবে। আর সেরকম কিছুই না’। বিশ্বের পাঁচ নম্বর দলের কোচ, যিনি ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে একসময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, তিনি প্রতিপক্ষের কোচকে কোথায় পাত্তা না দিয়ে চলে যাবেন, তা না করে জড়িয়ে ধরলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন, এ সত্যিই অভাবনীয়।

আরো অবাক করা বিষয় হল, ভারতীয় দলের প্রতিও আনসেলোত্তি সমান শ্রদ্ধাশীল। বিশ্ব ক্রমতালিকায় দুই দলের ফারাক যে ১৩৩ ধাপের, তা তাঁর এই কথা শুনে বোঝার উপায় নেই। ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘ওরা তো ভালো দল। ওদের দলের যে গোলকিপার (গুরপ্রীত), সে ৯০টা ম্যাচ খেলেছে দেশের হয়ে। ওদের যে স্ট্রাইকার রায়ান উইলিয়ামস, সেও তো পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচে ভালো খেলেছে। ভালো দল না হলে কখনও পানামার বিরুদ্ধে ড্র করতে পারে? ওদের প্রতি আমরা যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। ভারতকে যথেষ্ট সিরিয়াসলি নিচ্ছি আমরা। ওদের বিরুদ্ধে আমাদের ভালো ফুটবলই খেলতে হবে’।

নিজের দলের কথা বলতে গিয়ে আনসেলোত্তি ফিরে গেলেন ২০২৬ বিশ্বকাপে। কী সমস্যা হয়েছিল ব্রাজিলের? ভিনিসিয়াসদের কোচ বলেন, ‘আমি ২০২৫ সালে দায়িত্ব নিয়েছি। তাই এটুকু বলতে পারি, আমাদের কিছু সমস্যা ছিল, যেগুলো এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তাই পরের বছর সেগুলোর সমাধান করতে হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ এখন আর আগের মতো সহজ নয়। ফুটবল অনেক বদলে গিয়েছে এবং অন্যান্য জাতীয় দলও অনেক উন্নতি করেছে। আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি ও মতামত হল, ২০০২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল যে প্রতিভা দেখাতে পেরেছিল, সেটা ছিল অসাধারণ। আমাদের এখনও সেই প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু এখন শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না।

ফুটবল বদলে গিয়েছে। ছোট দলগুলিও অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠেছে। তাই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ঘিরে একটি ভালো, শক্তিশালী এবং সংগঠিত দল তৈরি করতে হয়। শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভর করলে এখন আর সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়’।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ব্রাজিলীয় ফুটবলের এমন কোন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেটি আপনি কখনও দল থেকে হারিয়ে যেতে দেখতে চান না?

তাতে আনসেলোত্তি বলেন, ‘অবশ্যই দায়বদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের গুণমানও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্রাজিলীয়দের জন্য ফুটবল খেলার মধ্যে যে আনন্দ, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই আনন্দই ব্রাজিলীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তাই আমি চাই, খেলোয়াড়রা প্রতিটি ম্যাচে আনন্দ নিয়ে, উপভোগ করে ফুটবল খেলুক। কখনও কখনও ম্যাচের চাপ এতটাই বেশি থাকে যে আমরা ভুলে যাই, ফুটবল আসলে কী—এটা একটি খেলা, একইসঙ্গে বিনোদনেরও অংশ। তাই মাঠে নেমে আনন্দের সঙ্গে, খুশি মনে ফুটবল খেলাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ’।

রাফিনহা না থাকায় আক্রমণভাগে এন্দ্রিক ও পেদ্রো—দু’জনকেই তিনি হাতে পাচ্ছেন। শনিবার তাঁদের মধ্যে কে খেলবেন, তা জানতে চাইলে ব্রাজিলের কোচ জানান, ‘এন্দ্রিক ও পেদ্রোর মধ্যে পার্থক্যটা খুবই স্পষ্ট। দু’জন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। এন্দ্রিক খুবই তরুণ এবং অসাধারণ প্রতিভাবান। ওর গুণমান, শক্তি এবং গতিশীলতা অসাধারণ। অন্যদিকে, পেদ্রো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতা খুবই ভালো।

আমি পেদ্রোকে আগে ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা চিনতাম না। কিন্তু তাকে দেখার পর তার বৈশিষ্ট্য বোঝা খুব সহজ— পেদ্রো এমন একজন খেলোয়াড়, যে সত্যিই ফুটবল খেলতে জানে। দু’জনের বৈশিষ্ট্য আলাদা, তাই দু’জনই দলের জন্য ভিন্ন কিছু দিতে পারে। তবে আগামীকাল কে খেলবে, সেটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না’। তবে শনিবার যে কলকাতাকে ভালো ফুটবল উপহার দেবে তাঁর দল, সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আনসেলোত্তি।