• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরাতে বাড়ি বাড়ি বিএলও, ‘অন-স্পট’ ফর্ম-৬ পূরণের নির্দেশ কমিশনের

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্ক এবং এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ

এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরাতে বাড়ি বাড়ি বিএলও, ‘অন-স্পট’ ফর্ম-৬ পূরণের নির্দেশ কমিশনের

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্ক এবং এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ কমিশনের। এসআইআর হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে ফর্ম-৬-এর বদল আগেই বাতিল করা হয়েছিল। এ বার পুরনো ও নতুন ভোটার তালিকা মিলিয়ে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম ফের নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হল বুথ লেভেল অফিসারদের।

বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করতে ‘ব্যাপক ও বিশেষ অভিযান’ চালাতে হবে। আগামী এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন বাদ পড়া ভোটারের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে বিএলও-দের।

কমিশনের নির্দেশ, বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের সময় কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানা গেলে, কিংবা কোনও নতুন ভোটারের নাম এখনও নথিভুক্ত না হয়ে থাকলে, বিএলও-রা ঘটনাস্থলেই তাঁদের দিয়ে ফর্ম-৬ পূরণ করিয়ে নিতে পারবেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য, কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা।

প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর আওতায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কী ভাবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে।

এরই মধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, ফর্ম-৬-এর বয়ান পরিবর্তন, এসআইআর-এর পরে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন নাম যুক্ত করার মতো একাধিক বিষয়ে গত ১০ মাসে তাঁরা ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিতর্কের মধ্যে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই। যদিও তাতে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। বিরোধী দলগুলি কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে।

শুক্রবার গাঁধী জয়ন্তীতে দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাগরিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনের আবহেই বিএলও-দের এই নতুন নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরনো ও নতুন ভোটার তালিকা মিলিয়ে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম ফের তালিকাভুক্ত করার এই অভিযান কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।