• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

‘সিবিআই আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধেই তদন্ত চাই’, ক্ষোভপ্রকাশ করলেন রত্না

তাছাড়া রত্না দেবনাথের এই ক্ষোভ এবং বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। শুক্রবার রত্না

‘সিবিআই আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধেই তদন্ত চাই’, ক্ষোভপ্রকাশ করলেন রত্না

BJP MLA Ratna Debnath Photo-SNS

সিবিআই যখন তদন্ত করছে, সিট গঠন করা হয়েছে, তখন আরজি কর মামলায় পুলিশের পৃথক তদন্ত কেন? এই প্রশ্ন তুলে পুলিশকে ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি। অভয়ার মৃত্যুর পর দেহ কেন তড়িঘড়ি সৎকার করা হল? সেটা নিয়ে মামলার ভার পুলিশের হাত থেকে নিয়ে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় উচ্চ ন্যায়ালয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশকে এবার মামলার যাবতীয় ফাইল তুলে দিতে হবে সিবিআইয়ের হাতে। আর তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ায় খুশি নন অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। এবার সিবিআই আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে বসলেন তিনি।

এই নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সিবিআই আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিলোত্তমার মা বিধায়ক রত্না দেবনাথ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘মেয়ের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমি কোনওভাবেই সন্তুষ্ট হতে পারছি না। আর সিবিআইয়ের গাফিলতির জন্য আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আদালতের আদেশের সমস্ত আইনি দিক আমার জানা না থাকলেও সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমি মোটেই খুশি নই। তদন্তকারী আধিকারিক সীমা আহুজার ভূমিকা নিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে।’

পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ অভিযোগ করেছিলেন, পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-সহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মিলে আসল ঘটনার প্রমাণ লোপাট করতেই অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার করেছেন। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর এবার তার তদন্ত করবে সিবিআই। পুলিশ নয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর কাণ্ড নিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে খড়দহ থানার পুলিশ নতুন এফআইআর করে। নির্যাতিতা তরুণীর দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-কেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এই তৎপরতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট অসন্তুষ্ট। যদিও নির্মল ঘোষ ওই মামলায় জামিন পেয়েছেন। কিন্তু সিবিআই আবার তদন্ত করবে সেটা চান না অভয়ার মা।

তাছাড়া রত্না দেবনাথের এই ক্ষোভ এবং বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। শুক্রবার রত্না দেবনাথের দাবিকে সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করেন আইনজীবী-বিধায়ক। মেয়ের বিচারের দাবিতে পরিবারের এই লড়াইয়ে তিনি পাশে আছেন বলেই জানান। তিলোত্তমার সৎকার মামলা পুলিশের হাত থেকে নিয়ে সিবিআইকে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, কোনও যুক্তি সাজে না। কলকাতা হাইকোর্ট সিট তৈরি করে দেওয়ার পরেও পুলিশ কাজ করেনি। তাই এই তদন্তও সিবিআই করবে। তবে রত্না দেবনাথ এদিন দাবি করেন, ‘সিবিআই আধিকারিক সীমা আহুজার বিরুদ্ধেই তদন্ত চাই।’