চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় মৃত্যুমিছিল নিয়ে গোটা শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। কেউ পুজো কমিটির দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ অভিযোগ করছেন পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে সামনে আসে চোরবাগান সার্বজনীনের পুজো দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির দু’জন। আর পানিহাটির বিধায়ক অভয়ার মা। বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি এই বিষয়ে কেমন উদ্যোগ নিলেন বা কী বললেন তা জানতে চান সকলেই। রবিবার সকালে সেটা সামনে চলে এল।
এখন চোরবাগানের দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুমিছিল নিয়ে সবটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে চোরবাগানের ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে লালবাজার। ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। এই আবহে রবিবার পানিহাটির দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং শারীরিক বিষযে খোঁজখবর নিয়েছেন। এদিন রত্না দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরা বলছে দুর্গাপুজো কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। পুলিশের গাফিলতি রয়েছে।’
ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় আছেন পুজো কমিটির সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েকজন। কিন্তু রত্না দেবনাথের কথা অনুযায়ী, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ দুর্গাপুজো কমিটি এবং পুলিশের বিরুদ্ধে। চোরবাগানে মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে রবিবার সকালে কথা বলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। পানিহাটির জয় অ্যাপার্টমেন্টে কল্পনার পুত্র এবং কন্যার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথের বক্তব্য, ‘এই ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুজো মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথ অন্ধকার ছিল। তার উপর বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছিল।’
তাছাড়া প্রায় ২৫ ফুট চওড়া রাস্তার ১৫ ফুটই দখল করে রেখেছিল স্টল। তাই বেরোনোর জন্য অবশিষ্ট ছিল মাত্র ১০ ফুট রাস্তা। এতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে স্টল বসানোর জন্য দখল করা হল সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ। রবিবার প্রাঞ্জল সরকারের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন পানিহাটির বিধায়ক। বাবা-মায়ের সঙ্গে পুজো দেখতে গিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর। ভিড়ের চাপে বাবা-মায়ের কাছ থেকে ছিটকে পড়ে যায়। যখন তাকে উদ্ধার করা হয় ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। এই দুটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর রত্না দেবনাথের প্রতিক্রিয়া, ‘এত লোক ডেকে এনে কেন ব্যবস্থা রাখা হবে না? প্রাঞ্জলের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না মা।’




