এবার রাজধানীর বুকে বসে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে তীব্র হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একাধিক সাংসদ-সহ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন সুখবর আসছে। তার জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। তার আগেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পড়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। বাংলার অন্তত ১৫০টি কেন্দ্রে ‘ভোট লুট’ করা হয়েছে বলে দাবি করে দেন হিসাবও। একযোগে নিশানা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান সীমা খান্নাকে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভিতরের দ্বন্দ্বের উল্লেখ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ একযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়াদিল্লিতে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মমতা এবং অভিষেক পৃথকভাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। একহাত নিয়েছেন বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে। এখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, ‘সীমা খান্না, ভ্যানিশ কুমার হাইজ্যাক করেছে গোটা ভোটপ্রক্রিয়া। গণনার দিন ২,৩ রাউন্ড পর থেকে পোস্টাল ব্যালটে কারচুপি করেছে। তারপর মিডিয়াকে ম্যানেজ করল। সবাইকে বলল, বিজেপি জিতছে। এটাই আসল গল্প। ভ্যানিশ কুমারের একটাই লক্ষ্য ছিল, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা। এদের কি পদত্যাগ চাইব না? আপনারাই বলুন। এঁদের শাস্তি হবে না? জনতা চায়।’
অন্যদিকে ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এখন বিশেষ রক্ষাকবচ পান। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যায় না। এই আইন নিয়ে সুর চড়িয়ে মমতার অভিযোগ, ‘জোর করে পাশ করা আইন। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নেই। এটাই বাস্তব। রক্ষাকবচের নামে এখানে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। ১০০টা কেন্দ্রের নাম দেব। যে কোনও একটা কেন্দ্রের দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। ওই সময়ের মধ্যে বুথের ভিতরে তৃণমূলের এজেন্টদের মারধর এবং ভোট লুট করা হয়েছে। ভবানীপুরে ‘ভোট লুট’ করা হয়েছে। আমি ১৫ হাজার ভোটে জিতছিলাম। আমাকে মারধর করেছে। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইভিএম হ্যাক করা হয়েছিল। ভোটের ফলাফলের পর তো জ্ঞানেশ মিষ্টি বিলি করেছেন।’
তাছাড়া এসআইআরের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোট লুট করেছে। এই অভিযোগ বারবার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সুর সপ্তমে তুলে মমতার তুলোধনা, ‘কবে থেকে বলছি, ভোট লুট হয়েছে। আমি এটার বিরোধিতায় আদালতে গিয়েছি, নিজে সওয়াল করেছি, বিচার পাইনি। এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছি। নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, ‘গেট লস্ট।’ বলুন তো, জ্ঞানেশ কুমারকে ক্ষমা করব কীভাবে? এপ্রিলে ভোট ছিল, আগের অক্টোবর থেকে এসআইআর হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কখনও শুনেছেন বিরোধী আর শাসক এক ছাদের তলায় আছে? পশ্চিমবঙ্গে সেটাই হচ্ছে। পুলিশ জোর করে বিরোধী শিবিরে তুলে নিয়ে গিয়ে বলছে, হয় জেলে যাও নয় রেবেল হও। পুলিশের দপ্তরই বিজেপির অফিস হয়ে গিয়েছে। আসলে ২০২৯ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগেই কী কী হয়, দেখতে থাকুন। শিগগিরই সুখবর আসবে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরতেই হবে। নিজে থেকে গেলে ভাল। ওঁর সম্মান থাকবে। পরে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আর না সরলে জনতা বুঝে নেবে।’




