• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 29 September, 2026

সিরাজ ফিরবেন, নাকি অভিষেক হবে অকিবের? গুয়াহাটিতে পেস আক্রমণ নিয়ে ধন্দে ভারত

তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর ওয়ানডে সিরিজে বুধবার গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। জিতলেই সিরিজ

সিরাজ ফিরবেন, নাকি অভিষেক হবে অকিবের? গুয়াহাটিতে পেস আক্রমণ নিয়ে ধন্দে ভারত

তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর ওয়ানডে সিরিজে বুধবার গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। জিতলেই সিরিজ পকেটে। কিন্তু সেই ম্যাচের আগে ভারতের চিন্তা ব্যাটিং নয়, বোলিংয়ের কম্বিনেশন। বিশেষ করে পেস আক্রমণ।

 

প্রথম ওয়ানডেতে জসপ্রীত বুমরাহ এশিয়ান গেমসে ব্যস্ত থাকায় এবং হার্দিক পাণ্ড্য ফিটনেস পরীক্ষায় এখনও ছাড়পত্র না পাওয়ায় নতুন বলে নীতিশ কুমার রেড্ডিকে ব্যবহার করেছিল ভারত। কিন্তু সেই পরীক্ষা সফল হয়নি। সাত বলের একটি ওভারে ১৮ রান দিয়ে বসেন রেড্ডি। অতিরিক্ত বাউন্সার নয়, বরং নো-বল, লেংথের ভুল এবং লেগ সাইডে বল করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের চাপমুক্ত করে দেন তিনি।

 

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাস্টিন গ্রিভস করেন তাঁর প্রথম ওয়ানডে শতরান। ১০৮ বলে ১০১ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৯৫/৭-এ পৌঁছে দেন তিনি। ফলে গুয়াহাটিতে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে বড় প্রশ্ন—রেড্ডিকে আরও একবার সুযোগ দেওয়া হবে, না কি অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজকে দলে ফেরানো হবে?

 

সিরাজ প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। তাঁকে ফেরালে দলের অলরাউন্ডার কম্বিনেশনে বদল আনতে হতে পারে। আবার আর একটি সম্ভাবনাও রয়েছে—জম্মু-কাশ্মীরের পেসার অকিব নবির অভিষেক। ভারতের টেস্ট স্কোয়াডে শ্রীলঙ্কা সফরে থাকলেও এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি তাঁর। রঞ্জি ট্রফিতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর এবার ওয়ানডে দলেও জায়গা পেয়েছেন নবি। ৩৬টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে তাঁর ৫৬টি উইকেট রয়েছে।

 

বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল অবশ্য রেড্ডির উপর আস্থা রাখার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘ওকে যদি আমরা যদি উন্নতি করার সুযোগ দিতে পারি এবং অলরাউন্ডারের জায়গাটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে পারি, তা হলে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সেটা দারুণ হবে। ওর প্রতিভা এবং সেই জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষমতা দুটোই আছে’।

 

কিন্তু বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর কতটা চলবে, সেটাই এখন প্রশ্ন। এক দিকে বুমরাহ নেই, হার্দিকও বাইরে। ফলে পেস আক্রমণে সিরাজের অভিজ্ঞতা ভারতকে বাড়তি নিশ্চয়তা দিতে পারে। আবার তুলনামূলকভাবে দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অকিবকে সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প তৈরি করার কথাও ভাবতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

ব্যাটিং নিয়ে অবশ্য স্বস্তির যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথম ম্যাচেই কোহলি ও গিল দু’জনেই শতরান করেছেন। কোহলি ৭৪ বলে শতরান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়েছেন। গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামও তাঁর কাছে স্পেশ্যাল— ২০২৩-এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এখানেই নিজের ৪৫তম ওয়ানডে শতরান করেছিলেন তিনি।

 

অন্য দিকে, সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এই ম্যাচ জেতা কার্যত জরুরি। প্রথম ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল তাদের ভুগিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ শেষ বার জিতেছিল তারা ২০০২ সালে। তার ওপর আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলতে হবে শাই হোপের দলকে। তাই এই সফর তাদের কাছেও নিজেদের কম্বিনেশন গুছিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

 

গুয়াহাটিতে তাই লড়াইটা শুধু সিরিজ জেতার নয়। সিরাজের অভিজ্ঞতা, না কি অকিবের অভিষেক—বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ভারতের পেস আক্রমণের পরবর্তী পদক্ষেপ কোন পথে যায়, নজর থাকবে সেদিকেও।