তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির ব্যাটে দেখা গিয়েছে সেই পুরনো ঝলক। ৮৮ বলে ১৩৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস শুধু ভারতকে সহজ জয়ই এনে দেয়নি, ফের সামনে এনে দিয়েছে ক্রিকেটের অন্যতম বড় প্রশ্ন— শচীন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ড কি ছুঁতে পারবেন কোহলি (Virat Kohli)?
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরিটি কোহলির (Virat Kohli) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮৬তম শতরান, আর এক দিনের ক্রিকেটে ৫৫তম। অর্থাৎ শচীনের (Sachin Tendulkar) সেঞ্চুরির শতকের মাইলফলক ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন আরও ১৪টি শতরান। রেকর্ড ভাঙতে হলে করতে হবে আরও ১৫টি।
কাজটা যে সহজ নয়, তা বলাই যায়। কোহলি (Virat Kohli) এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই খেলছেন। ফলে ১০০-তে পৌঁছতে প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত ম্যাচ, দীর্ঘ সময় ফিট থাকা এবং ধারাবাহিক ভাবে বড় রান করা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক ইনিংস আবার সেই সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৩৫ হাজার কিলোমিটার সফর! অস্ট্রেলিয়া হয়ে কলকাতা, ব্রাজিলের তারকাদের ‘বিশ্বভ্রমণ’
ভারতের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার দীনেশ কার্তিক, যিনি কোহলির সঙ্গে খেলেছেন, তিনি মনে করেন, কোহলি (Virat Kohli) এখনও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষবার ও ব্যাটিং করেছিল ১৯ জুলাই। তার পর ২৭ সেপ্টেম্বর। দু’মাস ব্যাট না ছোঁয়া একজন ক্রিকেটারের মতো কি ওকে মনে হয়েছে?’
কার্তিকের কথায়, ‘প্রথম বল থেকেই ওকে আত্মবিশ্বাসী, স্বচ্ছন্দ, কর্তৃত্বপূর্ণ এবং দাপুটে দেখিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, বিরাট নিজের ছন্দ ফিরে পেয়েছে। ওর মতো একজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে ‘ছন্দ’ শব্দটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এত কম ম্যাচ খেলেও যদি সেই ছন্দ খুঁজে পায়, তা হলে বিশ্বের আর কোনও ক্রিকেটার ওর চেয়ে ভাল নয়’।
কোহলির (Virat Kohli) ১০০ শতরানের স্বপ্ন নিয়ে মুখ খুলেছেন সদ্য অবসর নেওয়া অজিঙ্ক রাহানেও। তাঁর মতে, নিজের উপর চাপ তৈরি করলেই কোহলি (Virat Kohli) সেরা ক্রিকেটটা খেলেন। রাহানে বলেন, ‘বিরাট যখন নিজের উপর চাপ তৈরি করে, তখনই ও সেরা পারফরম্যান্স দেখায়। প্রতিটি ইনিংসেই ওর নিজের কাছে প্রত্যাশা থাকে। বিরাটকে আমি যতটা চিনি, ১০০ সেঞ্চুরির কথা যদি ও ভাবে, তাতে কোনও ভুল নেই। কারণ শচীন তেন্ডুলকর ওর আদর্শ। তাই আমি নিশ্চিত, ও নিশ্চয়ই বিষয়টা নিয়ে ভাবছে’। দুই প্রাক্তন তারকাই কথাগুলি বলেন দেশের এক নামী ক্রিকেট ওয়েবসাইটে।
তবে নিজের সম্ভাব্য রেকর্ড নিয়ে বরাবরের মতোই সংযত কোহলি। তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে শচীন পাজি (দাদা) সব সময়ই শচীন পাজি। মহেন্দ্র সিং ধোনি সব সময়ই আমার প্রথম অধিনায়ক। আমার ভিতরে এই বিষয়গুলি কখনও বদলাবে না’।
নিজের কৃতিত্ব নিয়েও কোহলির (Virat Kohli) ভাবনা স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও নিজেকে এমন একজন হিসাবে দেখিনি যে সব কিছু করে ফেলেছে, সব কিছু অর্জন করে ফেলেছে। এমন কোনও জায়গায় কেউ সত্যিই পৌঁছতে পারে না, যেখানে বলা যায়— এই তো, সব করে ফেলেছি’।
তিরুবনন্তপুরমে কোহলির (Virat Kohli) ইনিংস তাই শুধু একটি সেঞ্চুরি নয়। ৩৭ বছর বয়সে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নতুন করে তাঁর সামনে খুলে গিয়েছে শচীনের (Sachin Tendulkar) ১০০ আন্তর্জাতিক শতরানের সেই ঐতিহাসিক মাইলফলকের দরজা। এখন প্রশ্ন একটাই— আরো ১৪ ধাপ পেরিয়ে সেই দরজায় কড়া নাড়তে পারবেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)?
দেখুন:




