• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে পাকিস্তানের হুমকির জবাব

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে পাকিস্তান কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। ভারত তার জবাবে সন্ত্রাসবাদ, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বাস্তবতা সামনে এনেছে। ভারতের কাছে বার্তাটি তাই স্পষ্ট— কাশ্মীর নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার যতই চলুক, সন্ত্রাসবাদকে ভারতের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে পাকিস্তানের হুমকির জবাব

Photo: ANI

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চকে আবার ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের মঞ্চে পরিণত করল পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এবং সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত তার কড়া জবাব দিয়েছে। ভারতের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়— সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে শান্তির কথা বলা যায় না।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জম্মু ও কাশ্মীরকে নিয়ে গণভোটের পুরনো দাবি আবারও তোলা হয়েছে। কিন্তু ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট— জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কাশ্মীরের প্রশ্ন তুলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা দিল্লি মেনে নিতে রাজি নয়।

ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে। রাওয়ালাকোট-সহ ওই অঞ্চলে মানুষের অধিকার, হিংসা এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রসঙ্গ তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সামনে তুলে ধরেছেন। ভারতের বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই— পাকিস্তান যখন কাশ্মীরের মানুষের অধিকারের কথা বলে, তখন তার নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের মানুষের অধিকার ও সমস্যার প্রশ্নও উঠবে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের মাটি থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালিত হয়েছে। ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে বহু বছর অবস্থান করেছিলেন— রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে ভারত সেই ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ভারতের যুক্তি, যে রাষ্ট্রের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ পরিচালিত হয়, সেই রাষ্ট্র শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে নৈতিক অবস্থান দাবি করতে পারে না।

পহেলগামে ২০২৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবার বলেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য নদীর জল বন্ধ, বাধাগ্রস্ত বা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে সেটিকে যুদ্ধের কাজ হিসেবে দেখা হবে। এই ধরনের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার বদলে আলোচনার পথকেই কঠিন করে তোলে।

ভারতের অবস্থান হল, সন্ত্রাসবাদ এবং জলসম্পদের প্রশ্নকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর রাখার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে না— এমন অবস্থানই।দিল্লি প্রকাশ করেছে। ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস না করার বার্তাও রাষ্ট্রসঙ্ঘে।স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি— যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। দুই দেশের মানুষেরই শান্তি, উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রয়োজন। কিন্তু সেই শান্তির প্রথম শর্ত বিশ্বাস। আর বিশ্বাস তৈরি হতে হলে সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে পাকিস্তান কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। ভারত তার জবাবে সন্ত্রাসবাদ, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বাস্তবতা সামনে এনেছে। ভারতের কাছে বার্তাটি তাই স্পষ্ট— কাশ্মীর নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার যতই চলুক, সন্ত্রাসবাদকে ভারতের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ সংঘাতের নয়, স্থায়ী শান্তির হওয়া উচিত। কিন্তু শান্তির পথে এগোতে হলে পাকিস্তানকেই প্রথমে সন্ত্রাসের পথ থেকে সরে আসার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে। ভারত যে তার নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর থাকবে, রাষ্ট্রসঙ্ঘে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আবার স্পষ্ট হয়েছে।