এশিয়ান গেমসে তাঁর পদক জয়ের স্বপ্ন শেষ। তবে প্রতিযোগিতার সূচি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি সিঙ্গলস ম্যাচ খেলতে হয় পি ভি সিন্ধুকে। শেষ পর্যন্ত রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে চেন ইউ ফেইয়ের কাছে হেরে এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা। ম্যাচের পরেই ব্যস্ত সূচি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী।
শনিবার দুপুরে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলেছিলেন সিন্ধু। তার তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষ হয় রবিবার রাত প্রায় একটায়। তার মাত্র সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ তাঁকে নেমে পড়তে হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে প্রথম গেম ২১-১১ জিতেও শেষ পর্যন্ত চেনের কাছে ২১-১৮, ২১-১০ ব্যবধানে পরের দুই গেম হারেন তিনি।
ম্যাচের পর সিন্ধুর সাফ কথা, ‘সত্যি বলতে সূচিটা মোটেই ভাল ভাবে করা হয়নি।’ কোনো বড় প্রতিযোগিতায় এর আগে একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েনি বলেই জানান তিনি।
কেন সমস্যা হয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে দেন সিন্ধু। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা সত্যিই বেশি রাতে ঘুমিয়েছি। তার পর রবিবার সকালে আবার ফিরে এসে একই দিনে দু’টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। রিকভারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার সময়ই ঠিকমতো পেলাম না’।
২৪ ঘণ্টায় তিনটি ম্যাচ খেলার জন্য মানসিক ভাবে নিজেকে তৈরি করাও বেশ কঠিন। সিন্ধু বলেন, ‘এ শুধু মানসিক ভাবে প্রস্তুত হওয়ার বিষয় নয়, আপনাকে আগে রিকভার করতে হবে। আপনি ভাল আছেন বলে মনে হলেও শারীরিক ভাবে হয়তো কোর্টে নেমে খেলতে নামা যায় না।’
লম্বা র্যালির সময় সমস্যাটা আরও ভুগিয়েছে বলেও জানান সিন্ধু। তাঁর কথায়, ‘লম্বা র্যালি হলে অবশ্যই রিকভারি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন ভাল অবস্থায় থাকেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই এগোতে চান। কিন্তু ঠিকমতো রিকভারি না হলে পা নড়ে না।’
তবে হারের দায় শুধু এই আগোছালো সূচির ঘাড়ে চাপাতে চাননি সিন্ধু। তাঁর বক্তব্য, ‘সব মিলিয়ে ম্যাচটা ভালই হয়েছিল। শুধু সূচিটা আরও একটু ভাল ভাবে করা যেত।’
শুধু সিন্ধু নন, ভারতের আর এক শাটলার উন্নতি হুডাও সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের হারকে সূচির কারণে হয়েছে বলে দাবি করেননি তিনি। উন্নতির বক্তব্য, ‘আমি আমার হারের জন্য সূচিকে দায়ী করব না। তবে সূচিটা আরও ভাল ভাবে করা যেত।’
শুধু সূচি নয়, অভিযোগ আরও আছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আরও একটি বিষয় নিয়ে হতাশ সিন্ধু। তাঁর ম্যাচ হয়েছিল ইচিনোমিয়া জিমনেশিয়াম হলের কোর্ট ৪-এ। সেখানে হক-আই বা প্লেয়ার চ্যালেঞ্জের ব্যবস্থা ছিল না। এই প্রযুক্তি ছিল শুধুমাত্র ১ এবং ২ নম্বর শো কোর্টে।
সিন্ধুর দাবি, ‘এখানে কোনও ক্যামেরা ছিল না। বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। আমার মনে হয়েছে, দু’-তিনটি শট লাইনের উপর পড়েছিল। এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো ম্যাচে ক্যামেরা থাকা উচিত ছিল। কারণ এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।’
লাইন কল নিয়ে তাঁর আপত্তির জায়গাটাও পরিষ্কার করেছেন ভারতীয় তারকা। ‘আপনি যদি সেই পয়েন্টটি পান, তা হলে ভাল। আপনার হাতে সুবিধা চলে আসে। ক্যামেরা এবং রিভিউ থাকলে আপনি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কোনও কোনও সময় প্রতিপক্ষ শটের পর নড়তে পারে না, শাটল লাইনের কাছে পড়ে এবং লাইন জাজ সেটিকে বাইরে দেন। তখন চ্যালেঞ্জ করে পয়েন্ট পাওয়া যায়।’
তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না সিন্ধু। ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসেও খেলবেন কি না, সেই প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘যদি আমার মধ্যে খেলা থাকে, অবশ্যই। আমাকে শুধু চোটমুক্ত থাকতে হবে। এখন কী হবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ধাপে ধাপে এগোনোই গুরুত্বপূর্ণ।’
সিন্ধু আরও বলেন, ‘এখন বছর ধরে ধরে এগোনো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমি আর ২০ বছরের নই, তাই শরীরের যত্ন নিতে হবে। কোন প্রতিযোগিতায় খেলব, কোনটায় খেলব না— বেছে নিতে হবে। শরীরের যত্ন নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।’
তবে এত কিছুর পরেও খেলার প্রতি ভালবাসাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধু। তাঁর কথায়, ‘খেলার প্রতি আমার আবেগ এবং ভালবাসা এখনও রয়েছে। কত পদক জিতেছি, সেটা নয়—খেলাটাকে ভালবাসাই গুরুত্বপূর্ণ। সেই আবেগই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি এখনও জানি যে আমার মধ্যে আবেগ রয়েছে। আমি পারি এবং খেলাটা উপভোগ করছি।’




