• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 27 September, 2026

সন্ত্রাসে ‘জিরো টলারেন্স’, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তির আগে কড়া বার্তা মোদীর

২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তির আগে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান ফের স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সন্ত্রাসে ‘জিরো টলারেন্স’, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তির আগে কড়া বার্তা মোদীর

Image: IANS

২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তির আগে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান ফের স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে মোদী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসের জবাব দেওয়া হবে শক্ত ও নির্ণায়ক পদক্ষেপে।

২০১৬ সালের ২৮–২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনার চালানো ওই অভিযানকে দেশের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিতে ওই অভিযান বিশ্বকে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির একটি নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর উরির সেনাছাউনিতে হামলার পরই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে আগের একাধিক জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদী হামলার যন্ত্রণা সহ্য করেছে ভারত। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দেশের ‘নির্ণায়ক জবাব’ হিসেবে সামনে এসেছিল। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও। তাঁর বক্তব্য, ভারত শান্তি চায় এবং অন্যের ভূখণ্ড দখলের কোনও উদ্দেশ্য নেই। তবে শান্তির অবস্থানকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডে গিয়ে আঘাত হানার মতো পদক্ষেপের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একই বার্তা দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার বা তার পরিণতি থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও স্পষ্ট করেন তিনি।

পাকিস্তানের নাম সরাসরি না করলেও জয়শঙ্করের বক্তব্যের নিশানায় ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। তাঁর বক্তব্য, যারা ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত, তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে নয়াদিল্লি পিছপা হবে না বলেও বার্তা দেন বিদেশমন্ত্রী।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য এবং রাষ্ট্রপুঞ্জে বিদেশমন্ত্রীর অবস্থান—তিন ক্ষেত্রেই উঠে এল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের অভিন্ন বার্তা।