• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 27 September, 2026

ভারতের সঙ্গে ড্রয়ের জন্য অদ্ভুত কারণ দেখালেন পানামার কোচ, করলেন বিস্ফোরক মন্তব্য! সঙ্গে রায়ানদের প্রশংসাও

পানামা কোচ শেষ পর্যন্ত দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। ‘ফলটা আমারই দায়িত্ব’, বলেছেন ক্রিশ্চিয়ানসেন। তবে তাঁর বক্তব্যে এটাও পরিষ্কার

ভারতের সঙ্গে ড্রয়ের জন্য অদ্ভুত কারণ দেখালেন পানামার কোচ, করলেন বিস্ফোরক মন্তব্য! সঙ্গে রায়ানদের প্রশংসাও

Panama Coach Photo-SNS

বিশ্বকাপে খেলা দলের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র। ভারতের ফুটবল মহলে যখন এই ফল নিয়ে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা যথেষ্ট, তখন পানামা শিবিরে অন্য সুর। ভারতের কাছে আটকে যাওয়ার জন্য হা-হুতাশ করছেন উত্তর আমেরিকান দলের ফুটবলার কোচেরা। ভারতে এসে যে বিশ্বের ১৩৮ নম্বর দলের বিরুদ্ধে এ ভাবে আটকে যাবেন, বোধহয় ভাবতে পারেননি তাঁরা। তাই কী বলবেন, ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। হতাশায় কথার খেইও হারিয়ে ফেলছেন মাঝে মাঝে।

এর মধ্যেই জয় না পাওয়ার জন্য এক অদ্ভুত অজুহাত খাড়া করেছেন পানামার কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেন। এই ড্রয়ের পিছনে নাকি দায়ী বেঙ্গালুরুর যানজট এবং ম্যাচের আগে যাতায়াতের সমস্যা। শহরের ট্রাফিক সমস্যাকেই বড় কারণ হিসাবে তুলে ধরেছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, দলের পাঁচ ফুটবলারের অভিষেক এবং পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়াও সমস্যার কারণ ছিল।

ম্যাচের দিন পানামা দলকে হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যেতে প্রায় দু’ঘণ্টা বাসে কাটাতে হয়। দূরত্ব খুব বেশি না হলেও বেঙ্গালুরুর যানজটে সেই যাত্রাই ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। ম্যাচের পরে সেই প্রসঙ্গই উঠে আসে ক্রিশ্চিয়ানসেনের কথায়।

বলেন, ‘আমি চাই না এটা অজুহাত হিসাবে দেখাতে। তবে যানজটে দু’ঘণ্টা বাসে বসে স্টেডিয়ামে পৌঁছনো মোটেই সহজ নয়। এখানে লজিস্টিক্স এবং যাতায়াতের ব্যবস্থাও বেশ জটিল ছিল। ভবিষ্যতে আমরা যখন এই ধরনের চুক্তি করব, তখন আরও বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মাঠের ভিতরে এবং বাইরে— দুই জায়গাতেই আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। আমাদের ফুটবলারদের আরও ভাল ব্যবস্থাপনা প্রাপ্য’।

তবে শুধু যানজটকে দায়ী করেননি পানামা কোচ। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে পাঁচ জন ফুটবলারকে অভিষেক করিয়েছিলেন তিনি। দলটিও রয়েছে সন্ধিক্ষণের পর্যায়ে। ফলে নতুন ফুটবলারদের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করার মতো সময় পাননি তাঁরা।

ক্রিশ্চিয়ানসেনের কথায়, ‘সন্ধিক্ষণের সময়টা সহজ নয়। এই ম্যাচে পাঁচ জন ফুটবলারের প্রথম বার শুরু করার সুযোগ হয়েছিল। ফলটা আমার দায়িত্ব। ভ্রমণ এবং লজিস্টিক্স সমস্যার কারণে আমাদের কাজ করার, অনুশীলন করার মতো যথেষ্ট সময় ছিল না। তবে যে পাঁচজনের অভিষেক হয়েছে, তাদের শুরুটা দেখে আমি খুশি। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিখতে হবে’।

ম্যাচের শুরুতে সেই অস্বস্তির ছাপও দেখা গিয়েছিল পানামার খেলায়। রক্ষণে ফাঁক তৈরি হচ্ছিল, দুই বিভাগের মধ্যে দূরত্বও বেড়ে যাচ্ছিল। তার সুযোগ নেয় ভারত। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রায়ান উইলিয়ামস গোল করে এগিয়ে দেন ভারতকে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ওমর ভ্যালেন্সিয়ার দূরপাল্লার দুরন্ত শটে সমতা ফেরায় পানামা। শেষ পর্যন্ত ১-১-এই শেষ হয় ম্যাচ।

নিজেদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পানামা কোচ বলেন, ‘আমরা একটু অগোছালো ছিলাম। বল ফিরে পাওয়ার পরে ভারত সেই সুযোগেই আক্রমণে উঠতে পেরেছে, কারণ আমরা অনেকটা ছড়িয়ে গিয়েছিলাম এবং আমাদের দুই লাইনের মধ্যে দূরত্বও বেশি ছিল। কেন আমরা শুরুটা ভাল করতে পারিনি, তার অন্যতম কারণ এটাই’।

ভারতের আক্রমণ নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানসেন। তাঁর কথায়, ‘ওদের সময় এবং জায়গা দিলে ওরা যা খুশি করতে পারে, কারণ দলে বেশ কয়েক জন খুব ভাল মানের ফুটবলার রয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ট্রাইকারকে সামলাতে আমাদের সমস্যা হয়েছে। ভারতের আক্রমণ আমাদের রক্ষণকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছিল’।

অর্থাৎ, ভারতের ১-১ ড্র শুধু পানামার বিরুদ্ধে একটি পয়েন্ট পাওয়া নয়—বিশ্বকাপ খেলা দলের কোচের মুখেই উঠে এল ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা। তবে সেই সঙ্গে বেঙ্গালুরুর যানজট, সফরের ধকল এবং ম্যাচের আগে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে পানামার অসন্তোষও স্পষ্ট হয়ে গেল।

পানামা কোচ শেষ পর্যন্ত দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। ‘ফলটা আমারই দায়িত্ব’, বলেছেন ক্রিশ্চিয়ানসেন। তবে তাঁর বক্তব্যে এটাও পরিষ্কার—ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি তাঁদের কাছে শুধু একটি ড্র নয়, নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও।