বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছিল স্পেন। এক সময় পিছিয়েও পড়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরে এসে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নেশনস লিগ অভিযান শুরু করল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের সঙ্গে স্পেন টানা ৩৯ ম্যাচে অপরাজিত রইল।
শুরুটাই হয়েছিল স্পেনের পক্ষে। ম্যাচের দু’মিনিটও কাটেনি, ইংল্যান্ডের রক্ষণে মার্ক গুয়েহির ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন লামিনে ইয়ামাল। তার পর নীচু শটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে গোল খেয়েও দমে যায়নি ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের দুরন্ত দৌড় ও তারই পাস থেকে অ্যান্টনি গর্ডন গোল করে সমতা ফেরান। তার মাত্র চার মিনিট পরেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। নিকো ও’রাইলির ক্রস থেকে হ্যারি কেনের হেড মার্ক। কুকুরেয়ার গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১-এ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ৫৪ মিনিটে স্পট-কিক নিতে গিয়ে পা পিছলে যায় হ্যারি কেনের। তাঁর শট বারে লেগে ফিরে আসে। সেই মুহূর্তটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এর পরেই পাল্টা আঘাত স্পেনের। ৬০ মিনিটে অ্যালেক্স বায়েনা গোল করে স্কোর ২-২ করেন। শেষ পর্যন্ত ৭৪ মিনিটে ফের সেই পুরনো আতঙ্ক হয়ে দেখা দেন মিকেল ওয়ারসাবাল। ২০২৪ ইউরো ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল করা স্প্যানিশ তারকাই এ বারও ইংল্যান্ডের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন। কাছ থেকে দুরন্ত চিপে জেমস ট্র্যাফোর্ডকে পরাস্ত করে ৩-২ করেন তিনি।
🚨 KANE MISSES FROM THE SPOT 😱
Harry Kane misses a penalty as England lose 3-2 to Spain 😮💨
https://t.co/UFLqDzoSQY— Football on Predict (@FConPredict) September 26, 2026
অর্থাৎ, যে ম্যাচে এক সময় ২-১ এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড, সেই ম্যাচই শেষ পর্যন্ত তাদের হাতছাড়া হল। বিশেষ করে কেনের পেনাল্টি মিস এবং রক্ষণভাগের ভুলের খেসারত দিতে হল থমাস টুখেলের দলকে।
ম্যাচের পর টুখেল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা পেনাল্টিটা কাজে লাগাতে পারিনি। সেটাই হয়তো निর্নায়ক মুহূর্ত ছিল। আমার মনে হয়, তখন গোল হলে স্পেনও প্রথম বার বিশ্বাস করতে শুরু করত যে তাদের দীর্ঘ অপরাজিত দৌড় এখানেই শেষ হতে পারে। তৃতীয় গোলটাই ওরা সত্যিকারের নিজেদের তৈরি করে করেছে। বাকি দু’টি গোলে আমাদের ব্যক্তিগত ভাবে অনেক বড় ভুল ছিল’।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেনের কথাতেও হতাশার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ভাল মুহূর্ত তৈরি করেছিলাম। ম্যাচের একটা সময়, বিশেষ করে বিরতির আগে এবং পরে, অনেক দিন পর এটাই হয়তো আমাদের সেরা ফুটবল ছিল। আমরা জানি, আমাদের খেলার মান এরকমই ভাল’।
অন্য দিকে গর্ডনের কথায়, ইংল্যান্ডের লড়াই করার ক্ষমতার ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা বিশ্বের সেরা দলের কাছেই হেরেছি। আমার মতে, দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। আজকের ম্যাচ সেটাই প্রমাণ করেছে’।
বিশ্বকাপের পর প্রথম পরীক্ষাতেই স্পেন বুঝিয়ে দিল—ট্রফি জেতার পরেও তাদের খিদে কমেনি। আর ইংল্যান্ডের সামনে রয়ে গেল সেই পুরনো প্রশ্ন—বড় ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও কী ভাবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের হাতে রাখা যায়।




