• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 26 September, 2026

বিজেপির সাধারণ কর্মীর অসাধারণ উড়ান : কুঁড়েঘর থেকে পাঁচ জেলার দায়িত্বে

বাবলুর পদপ্রাপ্তির পর পুরনো কর্মীদের মর্যাদা দেওয়ার প্রসঙ্গটিও সামনে এসেছে । সেই বিষয়ে বাবলু বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে

বিজেপির সাধারণ কর্মীর অসাধারণ উড়ান : কুঁড়েঘর থেকে পাঁচ জেলার দায়িত্বে

Bablu Baram Photo-SNS

অভিষেক রায়: নিজেকে বিজেপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে ভাবতেই ভালোবাসেন । আশির দশকের মাঝামাঝি প্রথমে আরএসএস, পরে বিজেপিতে যোগদান। অত্যন্ত সাধারণ পরিবার। কুঁড়েঘরেই কেটে গিয়েছে জীবনের পাঁচটি দশক। বিজেপির সাততারা জীবনযাত্রার যে ছবি বিরোধী দল বা মিডিয়া মানুষের সামনে তুলে ধরে তার বিপরীতে অবস্থান বাবলু বরমের। সেই বাবলু বরমকে মেদিনীপুর বিভাগের বিভাগীয় কনভেনার করা হলো শমিত কুমার দাসের সঙ্গে যুগ্মভাবে । পদপ্রাপ্তির এই খবরে বাবলুর প্রতিক্রিয়া, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সাধারণ সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তী আমার মতো একজন সাধারণ কর্মীকে যোগ্য বলে মনে করেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

পুরাতন বাজারে বাবলু বরমের বিজেপি কার্যালয়ের এক চিলতে ঘরে শমীক ভট্টাচার্য , তপন সিকদারদের ছিল অবাধ যাতায়াত । তার আগে যারা রাজ্য সভাপতি হয়েছেন তাঁরা বাবলুর সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবেননি । কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরেই আশায় বুক বাঁধেন বাবলু বরমদের মতো দলের পুরনো কর্মীরা। বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচ মাস আগে তাকে ঝাড়গ্রাম জেলার ইনচার্জ করে পাঠানো হয়। দিনের পর দিন ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপি কার্যালয়ে রাত কাটিয়ে ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সাতটি বিধানসভায় বুথ স্তর পর্যন্ত কাজ করে গিয়েছেন বাবলু। ঝাড়গ্রামে সাতটি বিধানসভায় দলের সাফল্যে এক শতাংশ হলেও তার ভূমিকা রয়েছে এটা মনে করেন বাবলু। তিনি বলেন, ‘দলের শীর্ষস্থানীয় যেসব নেতৃত্ব ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন তাঁরা প্রত্যেকেই আমার কাজের প্রশংসা করে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন বছরের পর বছর বিজেপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করার পরে এই প্রশংসা প্রাপ্তি আমাকেও উজ্জীবিত করেছে।’

বাবলু আরো বলেন, এবার দল আমাকে বৃহত্তর ভূমিকায় দেখতে চাইছে । আমাদের কাজ হবে সংগঠনের শ্রী বৃদ্ধি করা এবং মোদিজীর বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাওয়া। আমরা দলের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করব। কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। মানুষের জন্য কাজ করব। বাবলু বরমের  কাজ দেখে প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

বাবলুর পদপ্রাপ্তির পর পুরনো কর্মীদের মর্যাদা দেওয়ার প্রসঙ্গটিও সামনে এসেছে । সেই বিষয়ে বাবলু বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে অনেক পুরনো কর্মীকে প্রার্থী করা হয়েছে। কাউকে দলের সংগঠনের দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে । নিঃসন্দেহে পুরনো দিনের কর্মীরা এর ফলে উজ্জীবিত । বাবলুর পদপ্রাপ্তির খবর পেয়ে শুধুমাত্র আশীর্বাদ দিতে অশক্ত শরীরে ছুটে এসেছেন প্রবীণ বিজেপি কর্মী বিবেকানন্দ ভট্টাচার্য । জয়ন্ত ব্যানার্জী, বেলারানি অধিকারী, স্নেহাশীষ বিশ্বাস, জহর চৌধুরী, অভিষেক আগরওয়ালদের মতো দলের পুরনো কর্মীরাও বাবলুদার এই খবরে নিজেদের খুশি চেপে রাখতে পারেননি। নিজের মাটির ঘরের দাওয়ায় বসে বাবলু বলেন, পুরনো এবং নতুন দুই কর্মীদের মিলনে আমাদের মানুষের কাজ করে যেতে হবে।