বাংলায় পালাবদল হওয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতাদের উপর হামলা হয়েই চলেছে। যার অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। শনিবার প্রথম শহর ছাড়িয়ে জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনির্বাচনে দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। তারপরই জ্ঞানেশ কুমারের গোপন কম্মটি ফাঁস করে দেয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্র। বিরোধীদের পালে হাওয়া লেগেছে এখন। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হুগলির শ্রীরামপুরে শনিবার মমতার সভা শুরুর আগেই কালীঘাট থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সুপ্রিমো। কুণাল ঘোষের উপর হামলার খবর পান নেত্রী। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, বাড়ি থেকে বেরতেই দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।
এদিকে হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি আটকে ভাঙচুর করা হয় উত্তরপাড়ায়। পাথর, রড দিয়ে হামলার সঙ্গেই ডিমও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। কুণাল ঘোষ জানান, মমতার সভায় যাতে তিনি যেতে না পারেন, তাই এসব করা হয়েছে। এসব করে তাঁকে থামানো যাবে না। আর ওখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে সটান ভবানী ভবনে চলে যান কুণাল ঘোষ। যদিও তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কুণাল জানান, তিনি অভিযোগ করতে আসেননি। তিনি উত্তরপাড়া থানায় মেল করে জানিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে নিজের গাড়ির অবস্থা দেখাতে এসেছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে এই ঘটনার পরই কালীঘাটের বাড়িতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তুলোধনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, ‘১৫ দিন আগে থেকে কোর্টে লড়ে মিটিংয়ের অনুমতি নিয়েছি। আমাদের বাড়ি থেকে বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। গুণ্ডা দিয়ে রাস্তা জ্যাম করে রেখেছে বিজেপি লুম্পেনরা। আফ্রিকান দেশগুলিতেও এরকম হয় না। কোথাও পুলিশের চিহ্ন নেই। পুলিশের সমর্থনেই সব হচ্ছে।’
তাছাড়া শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার উদ্দেশ্যে রওনার পথে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি হামলার ঘটনা উল্লেখ করেও গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্র্রীর তোপ, ‘আমাদের বিধায়ক কুণালের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তার সারা গায়ে কাচ ভর্তি, হামলা করে ওঁকে ঘিরে রেখেছে। চুঁচুড়া, উত্তরপাড়া থেকে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা অশুভ সংকেত। এমনিতেই পুলিশ কোনও সভার অনুমতি দিচ্ছে না। কোর্টের অর্ডার আনতে হচ্ছে। তারপরেও জুলুমবাজি। পুলিশের উর্দি ছেড়ে বিজেপির ঝান্ডা ধরা উচিত। আইনশৃঙ্খলা বিষয়টা দেখা উচিত পুলিশের।’ আর কুণালের অভিযোগ, ‘চালকের পাশে বসি আমি। আমাকে নিশানা করে পাথর ছোঁড়া হয়। আমার শরীর কাচে ভর্তি। ওদের মুখে ছিল গো- ব্যাক। মমতার সভায় যাওয়া যাবে না। সাধারণ নাগরিকের মতো একজন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি। সেই গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, ডিম ছোঁড়া হল।’




