• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 25 September, 2026

শরৎ এল রে: কৃষ্ণের মঙ্গল কামনা করে গোপিনীরা সিঁদুর খেলতেন, তাহলে কী করে দুর্গাপুজোয় চালু হল সিঁদুর খেলা?

 লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, প্রায় ২০০ বছর আগে জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজোর সময় সিঁদুর খেলা শুরু হয়েছিল।  সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ করলে সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় থাকবে, এমনটাই বিশ্বাস

শরৎ এল রে: কৃষ্ণের মঙ্গল কামনা করে গোপিনীরা সিঁদুর খেলতেন, তাহলে কী করে দুর্গাপুজোয় চালু হল সিঁদুর খেলা?

AI Image

দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা তারপর মায়ের আগমন। তাও মাত্র চারদিনের জন্য। তবে এই চারদিন বাঙালির কাছে সব থেকে আনন্দের সময়। এই সময় মা দুর্গাক ঘিরে চলে আনন্দ, ভক্তি আর পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে থাকার মিলনোৎসব। আনন্দের শেষ হয় বিজয়া দশমীর মাধ্যমে। বাপের বাড়ি কাটিয়ে মা ফিরে যান কৈলাসে, স্বামী শিবের গৃহে। আর মা বিদায়ের আগে হয় এক বিশেষ রীতি-সিঁদুর খেলা’ (Sindur Khela)।

তবে ‘সিঁদুর খেলার’ (Sindur Khela)উৎপত্তি নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য সেভাবে পাওয়া যায় না।  লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, প্রায় ২০০ বছর আগে জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজোর সময় সিঁদুর খেলা (Sindur Khela) শুরু হয়েছিল।  সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ করলে সিঁথির সিঁদুর (Sindur Khela) অক্ষয় থাকবে, এমনটাই বিশ্বাস। ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে পরিবার। শক্তির প্রতীক এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করে বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বিপ্লবীদের ধরতে গুপ্তচররা কুঠুরিতে লুকিয়ে থাকত, ক্ষুদিরাম আসতেন এই পুজোয়, জানেন কোন সেই পুজো

দশমীর সকালে বিসর্জনের আগে বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার (Durga Puja) চরণে সিঁদুর (Sindur Khela) নিবেদন করেন। এরপর তাঁরা একে অন্যের সিঁথিতে, কপালে এবং গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। মা বিদায়ের কষ্ট রঙে, আনন্দে ঢেকে যায়।

সিঁদুর (Sindur Khela) হিন্দু সংস্কৃতিতে শুধুই প্রসাধন নয়, সৌভাগ্য, শক্তি, প্রেম আর সংসার জীবনের প্রতীক। পুরাণ মতে, সিঁদুর  (Sindur Khela)ব্রহ্মার প্রতীক, যিনি জীবনে আনন্দ, সৃষ্টিশীলতা আর মঙ্গলময়তার বার্তা নিয়ে আসে। কপালে সিঁদুর দেওয়ার অর্থ ব্রহ্মাকে অধিষ্ঠান করা। এই বিশ্বাস থেকেই এই রীতির প্রচলন মনে করা হয়।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়ায় চালচিত্র

গীতায় কাত্যায়নী ব্রতের উল্লেখ রয়েছে। সেই ব্রত অনুসারে কৃষ্ণের মঙ্গল কামনা করে গোপিনীরা সিঁদুর খেলতেন। দশমীর দিন বিবাহিত মহিলার আগে দেবীকে বরণ করেন। তাঁর কপালে সিঁদুর স্পর্শ করে, সেই সিঁদুর (Sindur Khela) অন্যের সিঁথিতে ছুঁইয়ে দেন। একে সৌভাগ্যের প্রতীক ধরা হয়।

বর্তমান সময়ে সিঁদুর খেলা (Sindur Khela) রীতির বেড়াজাল কাটিয়ে সামাজিক মিলনে পরিণত হয়েছে। এই খেলার সবচেয়ে সুন্দর দিক হল-নারীদের মধ্যে বন্ধন, মিলন আর আনন্দের প্রকাশ। বয়স, সামাজিক অবস্থান ভুলে সবাই লাল রঙে মেতে ওঠেন। আধুনিক সময়ে বিবাহিত নারী ছাড়াও অবিবাহিত মেয়ে এমনকি পুরুষরাও সিঁদুর খেলায় (Sindur Khela) যোগ দেন। সিঁদুর খেলা  (Sindur Khela)বার্তা দেয়, মা (Durga Puja) কৈলাসে ফিরে গেলেও তাঁর আশীর্বাদ থেকে যাবে সংসারে, জীবনে ও সমাজে।

দেখুন: