নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ এবং কারচুপিযুক্ত মনে হলে সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন কেন? সিস্টেম বদলাতে চাইলে ভোটপ্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকুন। দেশের বিরোধী দলগুলিকে এমনই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর সাফ কথা, ‘হ্যাঁ, এই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি হচ্ছে। কিন্তু আপনারা লাগাতার এই নির্বাচনগুলিতে অংশ নিয়ে সেগুলিকে বৈধতা দিয়ে দিচ্ছেন।’ একইসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। আর শুক্রবার অভিজিৎ দীপকে জানান, শনিবারের মধ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে গান্ধীজয়ন্তী থেকে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। আন্দোলন শুরু হবে দেশের বাণিজ্যনগরী মুম্বাই থেকে।
এদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি তুমুল আন্দোলনে নেমে পড়েছে। একাধিক রাজ্যে পুনর্নির্বাচন করার দাবি উঠেছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ থেকে শুরু করে গ্রেপ্তারের দাবি পর্যন্ত উঠেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবিও উঠেছে। কিন্তু ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, ‘আপনারা যে খেলাটাকে অবৈধ বলে দাবি করছেন, সেই খেলাতেই অংশ নিচ্ছেন। এতে তো খেলাটাই বৈধতা পাচ্ছে।’ শুক্রবার সমাজমাধ্যমে অভিজিৎ দীপকে লেখেন, ‘শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সিজেপি আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করবে। তার পর দেশের প্রত্যেকটি শহরে এই আন্দোলনকে নিয়ে যাবে। এই গান্ধীজয়ন্তীতে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার শপথ নিন।’
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্কলহ অনেক কিছু সামনে এনে দিয়েছে। যা নিয়ে এখন রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ইমপিচমেন্টের পথে হাঁটতে চলেছে বিরোধী সাংসদরা। এই আবহে অভিজিৎ দীপকের সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন, ‘যে সিস্টেমে ভোট চুরি হচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে, দল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোন অস্তিত্ব বাঁচানোর চেষ্টা করছেন? যে সিস্টেম আপনাদের দুর্বল করে, দল ভেঙে দেয়, সাংসদ-বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেয়, সেই ব্যবস্থা এভাবে কতদিন টিকে থাকা সম্ভব?’
তাছাড়া একদিকে বিরোধীদের জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুলে দেশের নানা প্রান্তে নেমে পড়া অপরদিকে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন চাপে ফেলে দিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। আর তাই উত্তরপ্রদেশে জ্ঞানেশ কুমারের দুটি কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, চলতি বিতর্কের সঙ্গে কর্মসূচি স্থগিত রাখার কোনও সম্পর্ক নেই। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মেরঠে নবীন ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল জ্ঞানেশ কুমারের। আর সোমবার বারাণসীতে ‘জেন-জি’দের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি ছিল। এই দুটি কর্মসূচিই স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে দেশে।




