জাপানের (Japan) বিরুদ্ধে ভারতের রোমহর্ষক দুই রানের জয় এখনও বিতর্কের কেন্দ্রে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ওভারে একটি ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়াকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল। আম্পায়ারের প্রথম সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ার পরে সমাজমাধ্যমের একাংশে অভিযোগ ওঠে, ভারত (India) নাকি আম্পায়ারের উপর চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা আদায় করেছে। সেই বিতর্কে এ বার মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারতীয় (India) ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া। তাঁর বক্তব্য, নিয়ম খতিয়ে দেখার পরে তিনি নিজেই বুঝেছেন, প্রথমে তাঁর ধারণাই ভুল ছিল।
ঠিক কী হয়েছিল সে দিন? সানোতে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে এসেছিল পাঁচ ওভারে। ভারত (India) প্রথমে ব্যাট করে করে মাত্র ৩৩ রান। রান তাড়া করতে নেমে জাপানের (Japan) প্রয়োজন ছিল শেষ ওভারে ৮ রান। অক্ষর পটেলের করা ওভারের দ্বিতীয় বলে এক রান নেওয়ার পরে তৃতীয় বলে আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেন। বল লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় আম্পায়ার ওয়াইড দেন।
এর পরেই শুরু হয় নাটক। পরের বলেও শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স সুইপ করতে যান এবং অক্ষর ফের লেগ সাইডে বল করেন। আম্পায়ার প্রথমে আবার ওয়াইড দেন। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটাররা সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও স্কোয়্যার-লেগ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। দুই আম্পায়ারের আলোচনার পরে দ্বিতীয় ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। বলটি ‘ডট’ হিসেবে গণ্য হয়।
So this happened during India’s game against Japan earlier 👀
Hmmmmm. pic.twitter.com/cNpFbmYtqH
— England’s Barmy Army 🏴🎺 (@TheBarmyArmy) September 22, 2026
ফলে জাপানের (Japan) সমীকরণ বদলে যায়। ওয়াইড দেওয়া হলে চার বলে পাঁচ রান দরকার হত। সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় তিন বলে ছয় রান প্রয়োজন হয়। শেষ পর্যন্ত ভারত সাত রান রক্ষা করে ম্যাচ জেতে দুই রানে।
আরও পড়ুন: ভারতে আসার আগে জাপানের কাছে হার উরুগুয়ের, শেষ ১০ মিনিটে জোড়া ধাক্কা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে অনেকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘চিটিং’-এর অভিযোগও তুলেছেন। এই বিতর্কেই এ বার মুখ খুললেন আকাশ। তিনি বলেন, ‘লোকজন বলছেন, ভারত (India) চিটিং করে জাপানকে হারিয়েছে। কারণ, একটি ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়েছিল এবং ভারত চাপ তৈরি করার পরেই সিদ্ধান্ত পাল্টানো হয়েছে। মানুষ শুধু এটা নিয়ে হইচই করার চেষ্টা করছে’।
তবে নিজের প্রথম ধারণা নিয়েও সৎ আকাশ। তাঁর কথায়, ‘সেই সময়ে আমার বোঝাটাও ভুল হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, সুইচ হিট খেললে দু’দিকের ওয়াইডের নিয়মই বোলারের পক্ষে প্রযোজ্য, কিন্তু রিভার্স সুইপের ক্ষেত্রে তা নয়’।
আরও একটি জায়গায় তাঁর ভুল হয়েছিল বলে জানান প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার। বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, বল করার আগে ব্যাটার যদি নিজের স্টান্স না বদলায়, তা হলে ওয়াইড ওয়াইডই থাকবে। কিন্তু আমার সেই ধারণাও ভুল ছিল,’ বলেন তিনি।
এর পরে আইসিসির নতুন নিয়ম খতিয়ে দেখে আকাশের ব্যাখ্যা, রিভার্স সুইপ এবং সুইচ হিটকে এই ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখা হয় না। ব্যাটার সেই শট খেলার চেষ্টা করলে দু’দিকই ‘অফ সাইড’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি বল ছাড়ার আগে না পরে ব্যাটার নিজের অবস্থান বদলেছেন, সেটিও এখানে মূল বিষয় নয়।
একজন আইসিসি আম্পায়ারও পরে জানান, ‘ব্যাটার রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেছিল। তাই প্রথম থেকেই এটি ওয়াইড হওয়া উচিত ছিল না’। প্রাক্তন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার অনিল চৌধুরীর ব্যাখ্যাও একই—রিভার্স সুইপ বা সুইচ হিটের ক্ষেত্রে লেগ-সাইডের সাধারণ ওয়াইডের নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
অর্থাৎ বিতর্ক থাকলেও নিয়মের ব্যাখ্যায় দ্বিতীয় ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার অধিকার আম্পায়ারের ছিল। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী পরের বল শুরু হওয়ার আগে আম্পায়ার নিজের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে পারেন। সেই ম্যাচে পরের বলের রান-আপও শুরু হয়নি।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—প্রথম ওয়াইডটিও কেন একই ভাবে বাতিল হল না? এই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রথম সিদ্ধান্তের পরে দ্রুত পরের বল হয়ে যাওয়ায় সেটি সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়নি বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত ফল ভারতের পক্ষে— মাত্র ৩৩ রান করেও জাপানকে (Japan) দুই রানে হারায় তারা। কিন্তু ম্যাচের ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় এসেছে সেই শেষ ওভারের ওয়াইড। আর আকাশ চোপড়ার বক্তব্যে অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার— নিয়ম খতিয়ে দেখার পরে তিনিও স্বীকার করছেন, বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি নিয়ে তাঁর নিজের প্রাথমিক ধারণাই সঠিক ছিল না।
দেখুুন: ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা না দিলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ’, জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি সিজেপির




