আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর কেন্দ্রে ভোট হবে। আর এই উপনির্বাচনের আগে সরগরম হয়ে উঠল রেজিনগর। এখানে হুমায়ুন কবীরের ছেলে প্রার্থী হয়েছেন। কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকারের উপর দোষারোপ করে প্রচার থেকে পিছিয়ে যান নওদার বিধায়ক। এবার আবার দলের কর্মীদের মিথ্যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন তিনি। এই অভিযোগ তুলে রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসে পড়লেন তিনি। আসলে হুমায়ুনের সঙ্গে এখন মানুষ নেই। সেটা যত দিন যাচ্ছে তত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকেই নজর ঘোরাতে এই নয়া নাটক বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন হুমায়ুন। আর এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর থানার সামনে গিয়ে হুমায়ুন হঠাৎ ধর্না শুরু করেন। পুলিশের হুমকি বন্ধ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্না চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভোট লুট করে জেতার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। জীবন দিয়ে ভোট লুট আটকাবেন বলে সুর চড়িয়েছেন তিনি। যদিও অন্যান্য দলের নেতারা বলছেন, হুমায়ুনের প্রার্থী এবার জিতবে না। তাই নাটক করছেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৭ ঘণ্টা শক্তিপুর থানার সামনে হুমায়ুন কবীর অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন। তখনও তাঁর অভিযোগ ছিল, শক্তিপুর থানার পুলিশ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মীদের মিথ্যে মামলায় গ্রেপ্তার করছে এবং অত্যাচার চালাচ্ছে। এবার বৃহস্পতিবার সকালে কোনওরকম ঘোষণা না করে হুমায়ুন কবীর হঠাৎই রেজিনগর থানার সামনে গিয়ে একটি চেয়ার নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন। বুধবার রাতে রেজিনগর থানার পুলিশ রামপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তথা হুমায়ুন ঘনিষ্ঠ সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার পরই নওদার বিধায়ক রেজিনগর থানা সামনে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। হুমায়ুনের দাবি, এখন পর্যন্ত তাঁর দলের প্রায় ১৫ জন নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাছাড়া হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করা হয়েছে রেজিনগরে। আর বৃহস্পতিবার রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসে হুমায়ুনের অভিযোগ, বিজেপির কথায় পুলিশ আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে বেলডাঙা, রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ অফিসারদের বদলির দাবি জানাছি। কর্মীদের উপর পুলিশের হুমকি বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আগাম নোটিস ছাড়ায় আমি যে কোনও সময় থানার সামনে ধর্নায় বসব। ভোট লুট আমি জীবন দিয়েও রুখব। পুলিশ যদি আমাকে গ্রেপ্তার করতে চায় বা আমার বিরুদ্ধে মামলা শুরু করতে চায় তাঁরা সেটা করতে পারে।’




