রাতের অন্ধকারে মাটি খুঁড়ে টিনের ঘরে ঢুকে মহিলাকে খুন করার অভিযোগ উঠল নদিয়ায়। সোমবার সকালে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ৪৫ বছরের মহিলাকে ইট দিয়ে থেঁতলে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নদিয়ার রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা এলাকার ঘটনা নিয়ে সকাল থেকে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেছে। চুরির উদ্দেশে ঘরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পরিবারের অনুমান। শান্তিপুর থানার নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলিয়া প্রফুল্লনগর এলাকার ঘটনায় আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
খুন হওয়া মহিলার পরিবারের দাবি, এই হত্যার ঘটনার সময় ঘরে একাই ছিলেন তিনি। পাশের ঘরে ছেলে এবং ছেলের বউ ছিল। চিৎকার শুনে বের হতে গেলে দেখেন তাঁদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। ওই মহিলার নাম মিনতি বিশ্বাস (৫৫)। এই খুনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফুলিয়া থানার পুলিশ। পুলিশকে মিনতি বিশ্বাসের ছেলে জানান, মায়ের চিৎকার শুনে দরজা ভেঙে তাঁরা বাইরে বেরিয়েই দেখেন, পাশের ঘরে বিছানার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তাঁর মা। পাশে পড়েছিল একটি ইট। বিছানায় ছড়িয়ে ছিল ভাঙা শাঁখা এবং মুখের ভেঙে যাওয়া দাঁত।
কিন্তু ওই মহিলাকে কেন এভাবে খুন করা হল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। শুধু লুঠপাটের জন্য এভাবে খুন করা হয় না বলেই অনুমান পুলিশের। এই হত্যার নেপথ্যে অন্য কোনও ঘটনা আছে বলে মনে করছে ফুলিয়া থানার পুলিশ। এই ভয়ঙ্কর হত্যার দৃশ্য দেখে চিৎকার করতে থাকেন বউমা। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। আর তড়িঘড়ি মিনতিকে উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ খবর দেন প্রতিবেশীরাই।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার বৌমা মৌমিতা বিশ্বাস জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তীব্র চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন ঘরের দু’টি জায়গায় বড় আকারের সিঁধ কাটা। কিন্তু কোনও কিছু চুরি হয়নি। মৃতার আত্মীয় তথা পঞ্চায়েত সদস্য প্রভা বিশ্বাস পুলিশকে জানিয়েছেন, এক ব্যক্তির কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আক্রোশ থেকে এই খুন করা হয়েছে। মহিলার স্বামী পেশায় ভ্যানচলক। রাতে একটি হোটেলে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পালানোর সময় দুষ্কৃতী ঘটনাস্থলে একটি হাঁসুয়া ফেলে গিয়েছে।




