মাঝরাতে ডাকাতির উদ্দেশে জড়ো হওয়া পাঁচ ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল নদিয়ার শান্তিপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির একাধিক সরঞ্জাম। ধৃতদের রবিবার রানাঘাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মাঝরাতে শান্তিপুরের ফুলিয়া আরপাড়া কেসিসি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় একদল সন্দেহভাজন লোক জড়ো হয়। ডাকাতি করবে বলে খবর আসে থানায়। খবর পাওয়া মাত্রই শান্তিপুর থানার পুলিশ ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কয়েকজন ডাকাত রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে সেখান থেকে পাঁচজনকে ধরে ফেলে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ধৃতদের নাম হল- আব্দুল শেখ, আনোয়ার ঘড়ামি, সৌকাত শেখ, হাপিজুল শেখ এবং শাহজাহান মল্লিক। সামনে দুর্গাপুজো আসছে। আর তাই ডাকাতি করতে নেমে পড়েছে তারা। এই পাঁচজন আগেও নানা জায়গায় ডাকাতি করেছে বলে পুলিশের জেরা স্বীকার করেছে।
এই পাঁচজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ দফায় দফায় জেরা করে। তারা প্রথমে অপ্রাসঙ্গিক এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। পরে কড়া জেরার মুখে পড়ে তারা স্বীকার করে যে, রাতে ওই এলাকায় একটি বড় ডাকাতির উদ্দেশে তারা জড়ো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গোটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল আগে রেইকি করে। কোন কোন বাড়িতে ডাকাতি করা হবে তাও ঠিক করা হয়েছিল। যাদের টাকা-পয়সা আছে অথবা অবস্থা ভাল তাদের বাড়িতেই ডাকাতি করার ছক কষা হয়েছিল।
ডাকাতি করার জন্য নানা সরঞ্জামও ছিল তাদের কাছে। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে একটি লোহার রড, কাটিং প্লাস, স্ক্রু ড্রাইভার, নাইলনের দড়ি এবং একটি ধারালো চপার উদ্ধার করেছে। পুলিশ গোটা ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত সেটা তদন্ত করে দেখছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পালিয়ে যাওয়া বাকি ডাকাতদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্গাপুজোর আগে ডাকাতি করে গা-ঢাকা দিতে চেয়েছিল তারা বলে জেরায় জানিয়েছে। আর কোনও তথ্য তাদের কাছ থেকে মেলে কিনা সেটাই এখন দেখার।




