করম পুজোয় যোগ দিয়ে করম গাছ বসালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পুরুলিয়ার কড়াডিতে আদিবাসী কুড়মি সমাজের এক কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী, আজসু প্রধান সুদেশ মাহাতোও। শুভেন্দু অধিকারীকে বৃক্ষরোপণে সাহায্য করেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো। করম পরব ঘিরে রাঙামাটির জেলা পুরুলিয়ায় এই বছর অন্য ছবি দেখা গেল। এতদিন নিজেদের মধ্যেই এই প্রাচীন লোক উৎসব পালন করতেন আদিবাসী কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজন। এবার সেটা নির্দিষ্ট ঘেরাটোপের বাইরে গিয়ে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাড়ম্বরে পরব উদযাপন হল পুরুলিয়ায়। আর এখান থেকেই কুড়মিদের জন্য যেমন বড় ঘোষণা করলেন তেমন আগের সরকারকেও তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে আগের সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অত্যাচারও করেছে। একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীই প্রতিবাদ করেছিলেন। রবিবার পুরুলিয়ার কড়াডির মাঠে এই মন্তব্য করেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কুড়মিদের জনজাতি তকমা দেওয়া, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। একই সঙ্গে কুড়মি জাতি আন্দোলনে যত মামলা হয়েছিল, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’ এটা শুনেই মুখ্যমন্ত্রী ওই মঞ্চ থেকেই কথা দিলেন, ‘কুড়মিদের বিরুদ্ধে যত মামলা রয়েছে, সব প্রত্যাহার করব’।
অন্যদিকে রবিবার পুরুলিয়ার কড়াডিতে করম পরবের বিশাল আয়োজন করা হয়। এই পরবের কেন্দ্রে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এদিন তাঁর এখানে আসা এবং বক্তব্যে কোন বার্তা উঠে আসে, সেদিকে নজর ছিল সকলের। সেই আশা পূর্ণ করে মুখ্যমন্ত্রী এখান থেকে ঘোষণা করলেন, ‘কুড়মিদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভূক্ত করা হবে। খুব দ্রুত এই কাজ শুরু ও শেষ হবে।’ আর তা শুনেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনগণের মধ্যে তুমুল হাততালি, উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। রবিবার কলকাতা থেকে আকাশপথে অন্ডাল হয়ে পুরুলিয়ার কড়াডি ময়দানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৪০ হাজার মহিলা ঝুমুর নাচের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। কুড়মিদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ পাগড়ি এবং উত্তরীয় পরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে মঞ্চে বরণ করে নেন অজিত মাহাতো, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিশ্বজিৎ মাহাতো, সুদেশ মাহাতোরা।
তাছাড়া আগের সরকারকে তুলোধনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর বাজেটে বরাদ্দ করা টাকা এখানে সবটা খরচ হবে বলেও জানিয়ে দেন। একইসঙ্গে সভায় উপস্থিত সকলকে মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর তিনি নিজের হাতেই রেখেছেন। তাই সুর চড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমাকে অজিত মাহাতো বলেছেন, কীভাবে গত সরকার আদিবাসীদের মধ্যে বিরোধ লাগানোর চেষ্টা করেছে। কোনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। আপনারা ভাষার দাবিতে যখন আন্দোলন করছিলেন তখন ওরা অত্যাচার করেছিল, মিথ্যে মামলা দিয়েছিল। কুড়মিদের বিরুদ্ধে যত মামলা রয়েছে, সব প্রত্যাহার করব। অজিতবাবুরা বলেছিলেন, সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেবে যে দল, সেই দলকে সমর্থন জানাবেন। তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা নির্বাচনের সময়ে আমাদের সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লি গিয়ে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, সুদেশ মাহাতোরা আলোচনা করেছেন। ঠিক হয়েছে কুড়মালি ভাষা, রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভূক্ত করা হবে। ১৯২৫ সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু অলচিকি হরফ বানিয়েছিলেন। তারপর কংগ্রেস সরকার তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। ২০০৩ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীজি সাঁওতালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সুতরাং যা কাজ করার বিজেপিই করবে।’




