কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলাগুলির মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এই কারণে সফর দ্রুত ও মসৃণ করতে এবার আঞ্চলিক র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হল। দিল্লিতে চলে ‘নমো ভারত’ ট্রেন। ওই ট্রেনের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই প্রস্তাবের কথা জানাতে তিনি চিঠি লিখেছেন কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরকে। ওই চিঠিতে শমীকবাবু একটি বিশদ প্রাথমিক সম্ভাবনার রিপোর্টও জমা দিয়েছেন।
চারটি প্রস্তাবিত রুটের কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এক, কলকাতার ‘ময়দান’ হাবকে কেন্দ্র করে চারটি প্রধান করিডর গড়ে তোলা। দুই, কলকাতা-কল্যাণী-কৃষ্ণনগর-মায়াপুর রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে নদিয়া জেলা ও সংলগ্ন এলাকায় যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা। তিন, কলকাতা-বর্ধমান-দুর্গাপুর-আসানসোল রুটকে যুক্ত করা। তার সঙ্গে আসানসোল ও দুর্গাপুরে মেট্রো সংযোগের প্রস্তাব। চার, কলকাতা-ফলতা-ডায়মন্ডহারবার-হলদিয়া-নন্দীগ্রাম যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আর ময়দান থেকে বজবজ মেট্রোকে এটার সঙ্গে যুক্ত করা। আবার কলকাতা-সাঁতরাগাছি-কোলাঘাট-খড়গপুর-মেদিনীপুর রুট বড় ভূমিকা নেবে।
রেলের প্রকল্প যে পশ্চিমবঙ্গে বাড়বে তা কলকাতা এসে জানিয়ে গিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেসব তো চলছিলই। এবার ‘নমো ভারত’ ট্রেনের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে উঠলে যাতায়াত মসৃণ হবে। একইসঙ্গে রেল করিডর গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান এবং ব্যবসাও বাড়বে। সার্বিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকার হবে। তবে এই বিষয়ে সম্মতির পাল্টা চিঠি এখনও এসে পৌঁছয়নি।
তাছাড়া ওই চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন, রাজ্যর অধিকাংশ পরিকাঠামো এখনও কলকাতা কেন্দ্রিক। দুর্গাপুর, আসানসোল, খড়গপুর বা হলদিয়ার মতো শিল্প এবং শিক্ষাকেন্দ্রগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সাধারণ ট্রেন বা জাতীয় সড়ক যথেষ্ট নয়। জাতীয় সড়ক এবং রেললাইন ধরে এই নতুন রুটগুলি তৈরি হলে জমি অধিগ্রহণের খরচ এবং ঝক্কি অনেকটাই কমানো যাবে। এমনকী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ মালিকানায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল র্যাপিড ট্রানজিট কর্পোরেশন’ নামে একটি বিশেষ সংস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শমীকবাবুর এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পশ্চিবঙ্গে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।




