ভারতীয় ক্রিকেটে নির্বাচক-প্রধানের পদ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অজিত আগরকরের মেয়াদ বাড়বে কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আর সেই আবহেই পরবর্তী নির্বাচক-প্রধান হিসাবে জোরালো ভাবে উঠে এল প্রাক্তন ভারতীয় উইকেটকিপার পার্থিব প্যাটেলের নাম। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সূত্রের খবর, আগরকরের মেয়াদ বাড়ানো না হলে পার্থিবই হতে পারেন সিনিয়র নির্বাচক কমিটির নতুন চেয়ারম্যান।
আগরকরের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। শুক্রবার মুম্বইয়ে বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভার পর সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল জানিয়েছেন, আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বোর্ডের পদাধিকারীদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁকে রেখে দেওয়া হবে, না কি নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত এখন বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে থাকা কর্তাদের হাতেই। আর এই পরিস্থিতিতেই পার্থিবের নাম ক্রমশ সামনে আসছে।
গত ছ’মাস ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে পার্থিবকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি ধরে নিয়ে আলোচনা চলছে। পার্থিব বর্তমানে আইপিএলের দল গুজরাত টাইটান্সের সহকারী এবং ব্যাটিং কোচ হিসাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসাবেও তাঁকে দেখা যায়। নির্বাচক-প্রধানের দায়িত্ব পেলে গুজরাত টাইটান্সের ভূমিকা থেকে তাঁকে অব্যহতি নিতে হবে।
পার্থিবকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও। ২৫টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। বর্তমান নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদের মধ্যে সিনিয়রিটির বিচারে দায়িত্ব পেলে তিনিই সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা সদস্য হবেন। শিবসুন্দর দাস খেলেছেন ২৩টি টেস্ট, প্রজ্ঞান ওঝা ২৪টি এবং অজয় রাত্রা ৬টি। সেক্ষেত্রে পার্থিবকেই প্রধানের ভূমিকা পালন করতে হবে।
আগরকর অব্যহতি চান, এই নিয়ে আরও জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ, সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কোচ গৌতম গম্ভীর, টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না আগরকর। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়েছিলেন, আগরকর শহরের বাইরে ছিলেন। তবে বোর্ডের অন্দরমহলের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সেই সূত্রের দাবি, ‘সকলেই যখন উপস্থিত ছিলেন, তখন ভারতীয় ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সময় সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান সেখানে ছিলেন না। এটা একটু অদ্ভুত। এই ব্যাপারটাকে বোর্ড মোটেই ভাল ভাবে নেয়নি’।
তবে আগরকরের আমলে যে শুধুই বিতর্ক হয়েছে, তা নয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর মেয়াদে ভারত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে। তবে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হার, ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ টেস্ট সিরিজ হার এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৩-১ ব্যবধানে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি হারার মতো ধাক্কাও এসেছে।
অর্থাৎ, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে নির্বাচক-প্রধানের চেয়ার ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন—আগরকরই থাকবেন, নাকি নতুন অধ্যায়ের শুরু হবে পার্থিবকে দিয়ে? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন বোর্ডের সর্বোচ্চ কর্তাদের হাতেই।




