• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থন মমতার, সিস্টার পার্টিকে কাছে টেনে নয়া সমীকরণ

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সঞ্চিতা দে প্রধানকে প্রার্থী করেছিল মমতার তৃণমূল। তাই মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন তিনি

নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থন মমতার, সিস্টার পার্টিকে কাছে টেনে নয়া সমীকরণ

Mamata Banerjee Press Conference Photo-SNS

কংগ্রেস-তৃণমূল কবে কাছাকাছি আসবে? বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর এই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে যায়। তিন টুকরোর মধ্যে এক টুকরো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে থাকলেও বাকি দু’টুকরো ভাগ হয়ে যায় সাংসদ এবং বিধায়কদের মধ্যে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই নামক অখ্যাত দলে যোগ দেন। প্রায় ৬০ জন বিধায়কদের দল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে বসে। তার জেরে প্রতীক নিজের হাতে তৈরি করলেও তা ফ্রিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। আর এটা এমন সময়ে হল যখন রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন রয়েছে। আর এই মাহেন্দ্রক্ষণে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিতেই কংগ্রেস আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাছাকাছি এসে গেল। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এভাবেই একসঙ্গে পথ চলা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস চেয়েছিল মমতা সমর্থন দিক। সেটাতেই সাড়া দিলেন নেত্রী। এদিন কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।’ জোটের ক্ষেত্রে প্রথম পা বাড়িয়ে বুঝিয়ে দিলেন পরেরবার যেন কংগ্রেস দরজা খোলা রাখে। তবে কোনও মতেই বিজেপিকে সমর্থন করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। রেজিনগর আসনেও আছে উপনির্বাচন। ওই আসন নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আর দলের নাম-প্রতীক হারানো নিয়ে তিনি বারবার নিশানা করেছেন নির্বাচন কমিশনকে। ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলেও তোপ দেগেছেন।

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সঞ্চিতা দে প্রধানকে প্রার্থী করেছিল মমতার তৃণমূল। তাই মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে দেখা করার পরই হলদিয়ায় মহকুমাশাসকের দপ্তরে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সঞ্চিতা। আর তখনই কংগ্রেসকে সমর্থন করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯ বছর আগে এই কংগ্রেস ছেড়েই তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এখন দলের নাম-প্রতীক আপাতত হাতছাড়া হয়েছে। উপনির্বাচনের পর কার কাছে ফেরে সেটাই দেখার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দলের নাম-‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। মমতার দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ করতেই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর চড়িয়ে বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস। যা হচ্ছে দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্র-বিরোধী, পলিটিকালি বায়াসড। একটা রাজনৈতিক দলের স্বার্থ চরিাতর্থ করা হচ্ছে।’

তবে এখানেই থেমে থাকেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের পর আজ, ২০২৬ সাল অর্থাৎ ১৫ বছর পর নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে সমর্থন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় শোনা গেল, ‘আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়েছে। এনসিপি-কে ভেঙেছে। এবার আমাদের। আমি ব্যক্তিকে সম্মান করি না। বিজেপির হয়ে কাজ করেন। ঝুটা এসআইআর, ঝুটা ভোট করেছে। গণনা করেছে সিআরপিএফ। কাউন্টিং এজেন্টকে বের করে দিয়েছে। পুরো হাইজ্যাক করেছে। মাস্টারমাইন্ড কে? আমাদের ভদ্রতা, নাম নিচ্ছি না। হাইজ্যাক করেছে ইভিএম মেশিন। মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করেছে নির্বাচন কমিশন। রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার ফোন করেছিলেন। অরবিন্দও করেছেন। আমরা একসঙ্গে লড়ব। বিজেপিকে ছাড়ব না। সিস্টার পার্টিকে সাপোর্ট করব। ন্যাচরাল জোটকে সাপোর্ট করব। আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কংগ্রেসকে সমর্থন করব। নিজেদের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখানে কংগ্রেস জানত না।’