নিজে দলের নাম দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতীক একদা তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নাম-প্রতীক নিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন লড়াই-সংগ্রামে। আর তা নিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছিলেন। এখন তিনি বিরোধী আসনে। শুধু তাই নয়, ২৮ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং নাম আপাতত ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই এখন সেটা হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ফিরে পেতেও পারেন, আবার নাও পারেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই তিন টুকরো হয়ে যায়। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দেন। যাঁদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর প্রায় ৬০ জন বিধায়ক নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে আলাদা হয়ে যায়। এবার দলের নাম-প্রতীকও ফ্রিজ হয়ে গিয়ে নতু নাম-প্রতীক মিলেছে। এমন অবস্থা দেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, ‘ভগবান রামচন্দ্রের অভিশাপে সব ধ্বংস হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সবপক্ষের কথা শুনে উনি নিজের দলকে একজোট রাখতে পারেননি। দুই-তিন-চার ভাগ হয়েছে। এর দায়িত্ব ওনার। এটার সঙ্গে আমাদের বিজেপির কোনও রোল নেই। তবে আমি একটা কথা বলি, নির্বাচনের গণনার দিন হলদিয়ায় বলেছিলাম আর যেই থাকুক ওনারা থাকবেন না।’
এদিন নবান্নে বিশ্বকর্মা পুজোয় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে প্রার্থী করেছিলেন তাঁকে দেখা যায় শুক্রবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন। তারপরই নন্দীগ্রামের প্রার্থী সরিয়ে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সংস্কৃত প্রবাদ উদ্ধৃত করেন বলেন, ‘অতি দর্পে হতা লঙ্কা, অতিমানে চ কৌরবা। দম্ভ যার হবে, তাকে চূর্ণ করবে ভগবান। সর্বশক্তিমান আছেন। হিন্দু ধর্মকে গন্ধ্যা ধর্ম বলা, কুম্ভকে মৃত্যু কুম্ভ বলা, রামমন্দির উদ্বোধনের দিন মানি না বলে মিছিল করা। ভগবান পুরুত্তোম রামচন্দ্রের মহারাজে অভিশাপে সব ধ্বংস হয়েছে।’
তাছাড়া আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। তার আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় চাপ বেড়ে গিয়েছে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত জল কতদূর গড়ায়।




