• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

পাকিস্তান-চিন বর্ডার কমিশন গঠন, ‘আইনি বৈধতা নেই’ জানাল ভারত

কিন্তু দিল্লির আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা-সহ পাকিস্তানের দখলে থাকা জমি। ভারতের দাবি, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের

পাকিস্তান-চিন বর্ডার কমিশন গঠন, ‘আইনি বৈধতা নেই’ জানাল ভারত

India Oppose Pakistan China Border Commission Photo-SNS

চিনের সঙ্গে ‘বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ গড়েছে পাকিস্তান। আর সেই কমিশন নিয়েই এবার ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিল দিল্লি। ভারতের প্রশ্ন, যে ভূখণ্ডকে পাকিস্তান চিনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকা বলে দাবি করছে, সেটি তো ভারতেরই অংশ। তা হলে সেই জমি নিয়ে চিন-পাকিস্তান আবার যৌথ সীমান্ত কমিশন গড়ে কী করে ? বুধবার বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে কোনও সীমান্ত নেই।’ দিল্লি জানিয়েছে, তথাকথিত এই যৌথ সীমান্ত কমিশনের কোনও আইনি বৈধতাও নেই। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে কমিশনের প্রথম বৈঠকও তাই ভারত গ্রহণ করছে না বলে স্পষ্ট করেছে বিদেশ মন্ত্রক।

সম্প্রতি পাকিস্তান-চিন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশনের প্রথম বৈঠক হয় ইসলামাবাদে। পাকিস্তানের দাবি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত সমীক্ষা, বাণিজ্য এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতেই এই কমিশন তৈরি করা হয়েছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কিন্তু দিল্লির আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা-সহ পাকিস্তানের দখলে থাকা জমি। ভারতের দাবি, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের যে অংশকে চিনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকা হিসেবে দেখানো হচ্ছে তা ভারতেরই ভূখণ্ড। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান তথাকথিত চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিনকে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ ভারতের। সেই চুক্তিকে ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির বক্তব্য, ওই চুক্তি ‘অবৈধ ও অকার্যকর’।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চিন বা অন্য কোনও দেশের সঙ্গে চুক্তি করার অধিকার ইসলামাবাদের নেই। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে বলেও ফের জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি।

ভারতের আপত্তির আর একটি কারণ, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি-র একটি অংশও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এই কারণেই প্রকল্পটির বিরোধিতা করে আসছে ভারত। এর মধ্যে নতুন করে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করায় বেজিং-ইসলামাবাদের সীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে দিল্লির আপত্তি আরও প্রকাশ্যে এল।