• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

কংগ্রেসের সঙ্গে এক পথে হাঁটবে না তৃণমূল, জোট প্রস্তাব খারিজ হতেই রণংদেহী মমতা

তৃণমূলের এখন প্রতীক নিয়ে ঝামেলা চলছে। তার উপর সাংসদদের একটা বড় অংশ দল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন

কংগ্রেসের সঙ্গে এক পথে হাঁটবে না তৃণমূল, জোট প্রস্তাব খারিজ হতেই রণংদেহী মমতা

Rahul Gandhi-Mamata Banerjee Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পরাজিত হওয়ার পর কংগ্রেসের সঙ্গে এক পথে হাঁটবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৃণমূল। তাই নয়াদিল্লি গিয়ে সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে সব ঠিকই চলছিল। সংসদের ভিতরে-বাইরে একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। তাতে জোট প্রস্তাব গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেটা খারিজ হয়ে যেতেই এবার রণংদেহী মেজাজে একলা চলার সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা জানিয়েও দিয়েছেন কংগ্রেসকে বলে সূত্রের খবর। তৃণমূলের কাছে পথ কি কঠিন হল? উঠছে প্রশ্ন।

এদিকে আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন আছে। এই দুই কেন্দ্রের একটিতে কংগ্রেসকে সমর্থন করতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কংগ্রেসকেও অপর কেন্দ্রে তৃণমূলকে সমর্থন দিতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু অপেক্ষা করার পরও দেখা যায়, কংগ্রেস দুটি কেন্দ্রেই প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। তখন দুটি কেন্দ্রে তৃণমূলও প্রার্থী ঘোষণা করে দেন তৃণমূলনেত্রী। সুতরাং জোট ভেস্তে যায়। এি নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, ‘ভবিষ্যতে সংসদের ভিতরে বা বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে থাকবে না তৃণমূল কংগ্রেস।’

অন্যদিকে এই দুই কেন্দ্রে জোটের প্রস্তাব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন কেসি বেনুগোপালকে। কিন্তু স্থানীয় নেতৃত্ব তাতে রাজি হচ্ছে না বলে বেনুগোপাল জানিয়ে দেন মমতাকে। তারপর থেকেই দুই দলের মধ্যে সম্পর্কে চিড় খেল বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল তৃণমূলের এক সাংসদকে জানিয়ে দেন, স্থানীয় স্তরে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস কর্মীরা জোটের প্রস্তাব মানতে চাইছে না। এবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি কংগ্রেস শুধু তাদের স্থানীয় নেতাদের কথাতেই চলে, তবে সংসদেও তাদের সঙ্গে একযোগে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের থাকবে না।’

তৃণমূলের এখন প্রতীক নিয়ে ঝামেলা চলছে। তার উপর সাংসদদের একটা বড় অংশ দল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। বিধায়কদেরও একটা বড় অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে বিধানসভার ভিতরে জায়গা করে নিয়েছে। তার উপর কংগ্রেসের সঙ্গে না থাকলে লড়াই কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘এখন দুটি আসনে আগে আমাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক তৃণমূল। এখান থেকেই শুরু হোক। আরও অনেক লড়াই হবে আগামী দিনে। তখন দুই দলের জোটের বিষয় নিয়ে দেখা যাবে।’ যদিও এটা মানতে নারাজ তৃণমূল বলে সূত্রের খবর।