• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 16 September, 2026

বত্রিশেই বুটজোড়া তুলে রাখলেন প্রবীর, ‘মায়ের সমান’ মোহনবাগানকে স্মরণ করে আবেগঘন বিদায়

পরিবার, স্ত্রী গীতশ্রী, বন্ধু, চিকিৎসক এবং ক্লাবগুলির সাহায্যে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে ফের ফুটবলে ফিরেছিলেন প্রবীর

বত্রিশেই বুটজোড়া তুলে রাখলেন প্রবীর, ‘মায়ের সমান’ মোহনবাগানকে স্মরণ করে আবেগঘন বিদায়

Footballer Prabir Das Photo-SNS

বয়স মাত্র ৩২। অথচ ফুটবলকে বিদায় জানালেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি তারকা প্রবীর দাস। এক যুগেরও বেশি সময়ের পেশাদার ফুটবলজীবনের ইতি টানার কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় উইংব্যাক। মোহনবাগান, এটিকে, বেঙ্গালুরু এফসি, কেরল ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি থেকে ইন্টার কাশী—দেশের একাধিক বড় ক্লাবে খেলেছেন তিনি। জিতেছেন দু’টি আইএসএল ট্রফিও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শারীরিক সমস্যা, বিশেষ করে স্নায়ুর জটিলতাই তাঁকে ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করল।

সোদপুর থেকে উঠে আসা প্রবীরের ফুটবলের শুরু সেল অ্যাকাডেমিতে। তার পরে পৈলান অ্যারোজ, ডেম্পো, এফসি গোয়া এবং দিল্লি ডায়নামোস ঘুরে ২০১৫ সালে মোহনবাগানে যোগ দেন তিনি। সবুজ-মেরুন জার্সিতে তাঁর সময়টা ছিল কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মোহনবাগান এবং এটিকে মোহনবাগান মিলিয়ে ৮৭টি ম্যাচ খেলেছেন প্রবীর, করেছেন একটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট।

তবে মোহনবাগানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু পরিসংখ্যানের ছিল না। অবসর বার্তায় সেই আবেগই ফুটে উঠেছে। প্রবীর লিখেছেন, ‘সবাই জানে মোহনবাগান নিয়ে আমি কতটা আবেগপ্রবণ। এই ক্লাব সব সময় আমার মায়ের মতো হয়ে থাকবে। মোহনবাগান আমার মায়ের সমান। এখানেই একজন ফুটবলার হিসেবে আমি নিজের আসল পরিচয় খুঁজে পেয়েছি। ক্লাব এবং সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালবাসা আজীবন আমার হৃদয়ে থাকবে।’

এটিকে-তে থাকাকালীনও সাফল্য এসেছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১৬ সালে আতলেতিকো দে কলকাতার হয়ে প্রথম আইএসএল ট্রফি জেতেন প্রবীর। পরে ২০২০ সালে এটিকে-র হয়েও চ্যাম্পিয়ন হন। কেরিয়ারে গুরুতর এসিএল চোটও পেয়েছিলেন। সেই চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরাই তাঁর ফুটবলজীবনের অন্যতম বড় লড়াই।

কিন্তু আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছিল ফুটবল মাঠের বাইরে। গত বছর কেরল ব্লাস্টার্সের থাইল্যান্ডে প্রাক্-মরসুম শিবিরে থাকাকালীন শরীরের বাঁ দিকে ক্রমশ অসাড়তা অনুভব করতে থাকেন তিনি, ঝিনঝিনে অনুভূতি এবং ভারসাম্য হারানোর সমস্যা শুরু হয় তাঁর। ধরা পড়ে গুরুতর স্নায়ুর সমস্যা। তখন তাঁর লড়াই আর মাঠে ফেরার জন্য ছিল না, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই হয়ে উঠেছিল প্রধান লক্ষ্য।

পরিবার, স্ত্রী গীতশ্রী, বন্ধু, চিকিৎসক এবং ক্লাবগুলির সাহায্যে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে ফের ফুটবলে ফিরেছিলেন প্রবীর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অনেক ভাবনাচিন্তার পরে সিদ্ধান্ত নেন, আর পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

বিদায়-বার্তায় প্রবীর লিখেছেন, ‘ফুটবলের প্রতিটি খেলাতেই এক দিন শেষ বাঁশি বাজে। আজ কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়ে সেই পথেই হাঁটছি।’ তবে ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাচ্ছেন না তিনি। খেলোয়াড় হিসেবে অধ্যায় শেষ হলেও ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে অন্য কোনও ভূমিকায় যুক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

মোহনবাগান থেকে শুরু হওয়া আবেগ, এটিকে-র ট্রফি, চোটের বিরুদ্ধে লড়াই, স্নায়ুর অসুস্থতা সারিয়ে প্রত্যাবর্তন— সব মিলিয়ে প্রবীর দাসের ফুটবলজীবন ছিল উত্থান-পতনে ভরা। মাত্র ৩২ বছরেই সেই কেরিয়ারে নামালেন যবনিকা। মাঠে আর দেখা যাবে না তাঁর দৌড় ও চিরপরিচিত উচ্ছ্বাস, কিন্তু সবুজ-মেরুন সমর্থকদের স্মৃতিতে থেকেই যাবেন প্রবীর।