নয় বছর ধরে অপেক্ষা। কেটে গিয়েছে শৈশব, কৈশোর। তবু ঘরে ফেরেনি সুরাইয়া। ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল দিদির বাড়ি থেকে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের লালপুর গ্রামের ১৭ বছরের কিশোরী সুরাইয়া গাজি। তারপর থেকেই নিখোঁজ। দীর্ঘ ন’বছর পেরিয়েও তার কোনও সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সেই তদন্তভারই এবার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্য দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই চাইলে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের নেতৃত্বে অথবা নিজেদের পছন্দমতো আধিকারিককে সামনে রেখে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করতে পারবে। নিখোঁজ কিশোরীকে খুঁজে বের করাই হবে তদন্তের মূল লক্ষ্য।
আদালতের নির্দেশে রাজ্য সরকারকে তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত নথি অবিলম্বে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে সিবিআইকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। চার সপ্তাহ পর মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সকাল ৯টা নাগাদ মেজদির বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সুরাইয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের লালপুর গ্রামে দিদির বাড়িতে থাকত সে। নির্দিষ্ট সময়ের পরেও বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় খোঁজ। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে পরিচিত সমস্ত জায়গায় সন্ধান চালিয়েও মেলেনি কোনও হদিশ।
পরিবারের আশঙ্কা, সুরাইয়াকে পাচার করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এত বছর ধরে তদন্ত চললেও সেই রহস্যের কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সুরাইয়ার জামাইবাবু আবু জাফর মোল্লা ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল মথুরাপুর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: বিচারাঙ্গনের কিংবদন্তির ফিরে আসা, হাইকোর্টের বার লাইব্রেরিতে অমর হলেন অশোক কুমার সেন
বছরের পর বছর কেটে গেলেও নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার সরিয়ে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আদালত। এখন পরিবারের একটাই প্রশ্ন, ৯ বছর ধরে যে মেয়েটির ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিবার, সিবিআই কি সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারবে? সুরাইয়া কি আদৌ বেঁচে আছে, নাকি হারিয়ে গিয়েছে অন্ধকার কোনও অজানায়? সেই উত্তরের অপেক্ষায় সুরাইয়ার পরিবার। আর সেই উত্তরের খোঁজেই এবার শুরু হচ্ছে সিবিআই তদন্ত।




