• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 14 September, 2026

ফের বয়কট নকভিকে, এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি না নিয়েই দেশে ফিরছেন ভারতের মেয়েরা

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ জয়ের পরেও একই ঘটনা ঘটেছিল। এ বারও সেই সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়েরাও

ফের বয়কট নকভিকে, এশিয়া কাপ  জিতেও ট্রফি না নিয়েই দেশে  ফিরছেন ভারতের মেয়েরা

Photo: Representational Image

হরমনপ্রীত কৌরদের এশিয়া কাপ জয়ের পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের। শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টম বার এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। কিন্তু ট্রফি নেওয়ার সময় তৈরি হল অন্য ছবি। যে আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) সভাপতি মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi)হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ (Asia Cup) জয়ের পরেও একই ঘটনা ঘটেছিল। এ বারও সেই সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়েরাও।

কেন এই সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় দল? ব্যাখ্যা দিলেন বিসিসিআই (BCCI) সচিব দেবজিৎ সইকিয়া। তাঁর বক্তব্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলের পহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তার পর থেকেই দেশের মানুষের একাংশের চাপ ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখা বা ক্রিকেট খেলা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গল-মহামেডান ম্যাচ সরল কল্যাণীতে

তবে ভারত সরকার বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় সব দেশের বিরুদ্ধে খেলার নীতি নিয়েছে। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি শর্ত মেনে নিতে হবে—এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন সইকিয়া।

‘দেশের স্বার্থবিরোধী নেতার হাত থেকে ট্রফি নিতে পারি না’

সইকিয়া বলেন, ‘ওদের সঙ্গে খেলার অর্থ এই নয় যে আমরা আমাদের জন্য ঠিক করা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। আমাদের সামরিক সংঘাত এখনও চলছে। আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, এমন এক নেতার হাত থেকে আমরা ট্রফি নিতে পারি না। গত বছর পুরুষ দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মহিলা দলও সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছে’।

গত বছরও পুরুষদের ক্রিকেটেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ (Asia Cup)জেতার পর ভারতীয় ক্রিকেটারেরা দীর্ঘ সময় ট্রফি ও পদক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ বার অবশ্য ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলই অংশ নেয়নি। নকভি (Mohsin Naqvi) মঞ্চে উঠে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে রানার্স-আপের চেক দেন। কিন্তু ভারতীয় দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সুযোগই হয়নি তাঁর (Mohsin Naqvi)।

তবে সইকিয়া স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভারতের মাঠের সাফল্যকে মেলানো উচিত নয়। তাঁর কথায়, ‘এতে আমাদের দলের পারফরম্যান্সের কোনও ভাবেই গুরুত্ব কমে না। আমরা সব ম্যাচ একতরফা ভাবে জিতেছি। ভারতে মহিলা ক্রিকেট এত ভাল ভাবে এগোচ্ছে, তার চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না। আমাদের পুরো পরিকল্পনাই আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে। এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হল, ভারত বাকিদের অনেক পিছনে ফেলে এতটা এগিয়ে গিয়েছে’।

ম্যাচের সময় নকভির (Mohsin Naqvi)সঙ্গে সইকিয়া ও বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লের দেখা হয়েছিল। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সইকিয়া জানান, সৌজন্য সাক্ষাতে কোনও সমস্যা নেই। তিনি বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করব না। টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সেই বসেছিলাম। যাঁরা এসেছেন, সকলেই আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। কেউ পাশে বসেছেন, পরে শুক্লও এসে বসেছেন। যাঁর কথা বলছেন, তিনিও ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ (আল জারুনি)-র পাশে এসে বসেছিলেন। এটা স্বাভাবিক রীতি—কেউ এলে আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি’।

আরও পড়ুন: সৌভিক, বরিসকে ছাড়াই জর্ডনে পৌছালো ইস্টবেঙ্গল

ট্রফি বিতরণ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন সইকিয়া। তাঁর কথায়, ‘আজকের পরিস্থিতি সমাধান করার চেষ্টা আমরা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের চেষ্টা সফল হয়নি। তবে এর জন্য আমাদের কোনও আক্ষেপ নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল কে ট্রফি দেবে, তা নয়। আমরা চেয়েছিলাম ভারতীয় দল জিতুক। সেটাই আমরা অর্জন করেছি।’

রবিবার রাতে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টম বার মহিলা এশিয়া কাপের (Asia Cup)খেতাব জিতে নেয় এবং অপরাজিত থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করল ভারত।

২০২৪-এর ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হয় এ বার ফাইনালে। সে বার ডাম্বুলায় ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। এ বার অবশ্য সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হতে দিল না ভারত। টানা ১০ নম্বর ফাইনালে ১৮৩ রান তুলে সহজেই জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন দুই ওপেনার শেফালি বর্মা (৬৮) এবং স্মৃতি মন্ধানা (৫৯)।

এ বার অবশ্য এশিয়া কাপের (Asia Cup) উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ উপভোগ করার সুযোগ নেই হরমনপ্রীতদের। সামনে এশিয়ান গেমস। ১৮, ২০ এবং ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের ম্যাচ রয়েছে। সইকিয়ার কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য সোনা নিয়ে দেশে ফেরা। সেটাই এখন একমাত্র উদ্দেশ্য’।

দেখুন: