• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 12 September, 2026

দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম এগারো বাছা নিয়েই বড়সড় ধন্দ ‘অতিথি’ টিম ইন্ডিয়ার সাজঘরে

শুধু ওপেনিং নয়, দলের অন্যদের নিয়েও কম ধন্দে নেই ভারতীয় শিবির। শুক্রবার ইশানের চোট লাগলেও তিনি এখন ফিট বলেই শোনা যাচ্ছে

দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম এগারো বাছা নিয়েই বড়সড় ধন্দ ‘অতিথি’ টিম ইন্ডিয়ার সাজঘরে

Team India’s Dressing Room Photo-SNS

অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম থেকে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দূরে লাজপত নগর। এক সময় উদ্বাস্তু কলোনি ছিল এই এলাকা। এখন সেখানে হাজার হাজার আফগান বসবাস করেন। ফারসি হরফে লেখা বিজ্ঞাপনও চোখে পড়ে সেখানে। তাই অনেকেই এই লাজপত নগরকে বলেন ‘মিনি কাবুল’।

রবিবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের গ্যালারির একাংশ যে ভরিয়ে তুলবে এই ‘’মিনি কাবুল’-এর বাসিন্দারা, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। রবিবার থেকে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে, তাতে ভারতই অতিথি। কারণ, আফগানিস্তানে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ খেলার মতো অবস্থা নেই। তাই ‘হোম সিরিজ’ খেলার জন্য ভারতেই আসতে হয়েছে তাদের।

তবে মাঠে সেই অতিথিপরায়ণতা দেখানোর কোনও ইচ্ছে নেই আফগান ক্রিকেটারদের। ফেব্রুয়ারির বিশ্বকাপের পর আর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলেনি তারা। নতুন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের নেতৃত্বে মূল দলটাও প্রায় একই। ফলে সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের বিরুদ্ধে এটাই যে তাদের কাছে বড় সুযোগ, তা ভাল ভাবেই জানেন রশিদ খানরা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ভারতের সময়টাও খুব একটা ভাল যায়নি। বিশ্বকাপ জয়ের পর আয়ারল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার—তিন বছরে প্রথম বার। তার পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জয় অবশ্য সেই ছবিটা খুব বেশি বদলায়নি। তবে এ বার প্রায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামছে ভারত। ফিরছেন জসপ্রীত বুমরাহ এবং বরুণ চক্রবর্তী। চোটের কারণে নেই শুধু হার্দিক পাণ্ড্য।

আফগানিস্তানও পাচ্ছে নাভিন উল হককে। চোটের কারণে বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি তিনি। দলে আরও দু’টি পরিবর্তন—ব্যাক-আপ উইকেটকিপার নূর উল রহমান এবং ব্যাক-আপ অলরাউন্ডার নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতে। বছরের শুরুতে ভারত সফরে একমাত্র টেস্ট এবং তিনটি ওয়ান ডে-তেই হেরেছিল আফগানিস্তান। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম জয় তুলে নিয়ে সেই হিসাব কিছুটা মেটাতে মরিয়া তারা। এখনও পর্যন্ত একমাত্র পূর্ণ সদস্য দেশ হিসাবে আফগানিস্তান যাদের হারাতে পারেনি, সেই ভারতকেই এ বার দিল্লিতে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছে তারা।

রবিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগেই ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় ধাঁধা—ওপেন করবেন কারা? তিন দাবিদার, জায়গা দু’টি। সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং কিশোর বৈভব সূর্যবংশী—এই তিন জনের মধ্যে কাদের দিয়ে ইনিংস শুরু করানো হবে, সেই সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্রেয়স আইয়ারকে অবশ্য চার নম্বরে রাখার পক্ষেই মত জোরালো। অধিনায়ক হিসাবে ব্যাটিং অর্ডারে তাঁর জায়গা নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা না করে তাঁকে চারেই খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আসল লড়াইটা ওপেনিংয়ের দুই জায়গা নিয়ে।

সঞ্জুকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই যেন উঠছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে এ বার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওপেন করার সুযোগ পেতে পারেন সঞ্জু।

কিন্তু তাঁর সঙ্গী কে? এক দিকে অভিষেক। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। অন্য দিকে বৈভব। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নজর কেড়েছেন এই কিশোর। জিম্বাবোয়ে সফরে সিরিজের সেরা ক্রিকেটার হওয়ার পর তাঁর আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে।

ইংল্যান্ড সফরে বৈভবের অভিষেকের সময় সঞ্জুর বদলে অভিষেককে বেছে নিয়েছিল ভারতীয় দল। সেই সিদ্ধান্তই এখন নতুন করে আলোচনায়। কারণ এ বার সঞ্জু দলে ফিরেছেন। ফলে একই সঙ্গে তিন জনকে একাদশে রাখা কঠিন।

কিন্তু বৈভবকে কি ফের সুযোগ দেওয়া হবে? তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম তাঁকে দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাটিং ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে যথেষ্ট মুগ্ধ করেছে। বয়স তাঁর পক্ষে বাধা নয়, বরং অল্প বয়সেই যে পরিণত ব্যাটিং করছেন, সেটাই তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

তবে অভিষেকের অভিজ্ঞতা বেশি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাঁর বড় অস্ত্র। ফলে তাঁকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও সহজ হবে না।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে সঞ্জু-অভিষেক জুটি। তাতে বৈভবকে আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। আবার বৈভবকে খেলানোর সিদ্ধান্ত হলে অভিষেককে বসতে হতে পারে।

শুধু ওপেনিং নয়, অধিনায়ক শ্রেয়সের জন্যও এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। তিন বছর পর ভারতের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হার তাঁর অধিনায়কত্বের খাতায় রয়েছে। ফলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের শুরুতেই দলকে জয়ের পথে ফেরানো তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

চার নম্বরে ব্যাট করে তিনি নিজেও বড় রান করতে চাইবেন। কারণ অধিনায়ক হিসাবে নিজের জায়গা আরও শক্ত করতে হলে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াটা জরুরি।

ভারতের হাতে আরও রয়েছে তিলক বর্মা, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো অলরাউন্ডার। বুমরাহ, অর্শদীপ সিংহ এবং বরুণ চক্রবর্তীর বোলিং লাইন-আপও প্রায় নিশ্চিত। ফলে প্রথম এগারোয় ভারসাম্য তৈরি করতে গিয়ে ওপেনিংয়ের সিদ্ধান্তই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনায় থাকবে।

শুধু ওপেনিং নয়, দলের অন্যদের নিয়েও কম ধন্দে নেই ভারতীয় শিবির। শুক্রবার ইশানের চোট লাগলেও তিনি এখন ফিট বলেই শোনা যাচ্ছে। নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর পটেল এবং শিবম দুবের মধ্যে অলরাউন্ডার বেছে নিতে হবে। বুমরাহ, বরুণ এবং অর্শদীপ সিংহের খেলা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু হর্ষিত না থাকায় আট নম্বর জায়গাটিই বড় প্রশ্ন। ইংল্যান্ডে আট নম্বরে অলরাউন্ডার খেলিয়েছিল ভারত, জিম্বাবোয়েতে খেলেছিল বিশেষজ্ঞ বোলার। দিল্লিতে শ্রেয়সদের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটাই দেখার।

এই ম্যাচে নজরে থাকবেন রশিদ খানও। আফগানিস্তানের অধিনায়কত্ব হারালেও বল হাতে পুরনো ছন্দ ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন রশিদ খান। গত দুই আইপিএলে যথাক্রমে ১০ এবং ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। এ বার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবেন তিনি। আইপিএলে দিল্লিতে একমাত্র ম্যাচে গুজরাত টাইটান্সের হয়ে ১৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলকে এক রানের নাটকীয় জয়ও এনে দিয়েছিলেন রশিদ।

সম্ভাব্য ভারতীয় দল: অভিষেক শর্মা/বৈভব সূর্যবংশী/সঞ্জু স্যামসনের মধ্যে দু’জন, ইশান কিষাণ, (উইকেটকিপার), শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক), তিলক বর্মা, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অর্শদীপ সিংহ, জসপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী।