শুরুটা ছিল একটু নড়বড়ে। শেষটাও খুব বড় রান নয়। কিন্তু মাঝখানে এক ঝলকে ম্যাচের ছবিটাই বদলে দিলেন শেফালি বর্মা। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পরে দীপ্তি শর্মার ঘূর্ণি। দুইয়ের দাপটে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে (Women’s Asia Cup Final) উঠে গেল ভারত।
এশিয়া কাপের ইতিহাসে (Women’s Asia Cup Final) এ নিয়ে টানা দশম বার ফাইনালে উঠল ভারত। এখন অপেক্ষা দ্বিতীয় সেমিফাইনালের। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচের জয়ী দলের বিরুদ্ধে রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালে নামবে ভারত। গত বার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল। এ বার সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ সামনে হরমনপ্রীতদের।
বাংলাদেশ টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। কিন্তু নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শুরুতেই স্মৃতি মন্ধানা মাত্র ২ রানে ফিরে গেলেও শেফালি (Shafali Verma) এবং প্রতিকা রাওয়াল দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ করে ভারতকে ম্যাচে ফেরান। প্রতিকা ২৪ বলে ২০ রান করে আউট হন।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের টিকিট বন্টন নিয়ে অভিযোগের পাল্টা জবাব সৌরভের, কী বললেন তিনি?
তার পরে শুরু হয় শেফালি-ঝড়। মাত্র ৩৫ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ২০ নম্বর হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৬৪ রান করে থামেন শেফালি (Shafali Verma) । তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার এবং তিনটি ছক্কা। তবে এই ইনিংসে ভাগ্যও কম সহায় ছিল না। তিন বার ক্যাচ পড়েছে তাঁর, এমনকি সহজ রান-আউটের সুযোগও হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। সেই সুযোগের পুরো ফায়দা তুলেই ভারতকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেন শেফালি (Shafali Verma) ।
What a phenomenal achievement by Shafali Verma! 🇮🇳🔥 A true star of Indian cricket.#India pic.twitter.com/43rbI9FGt3
— Anup barnwal (@amethiya_anup) September 10, 2026
ম্যাচের পর শেফালি (Shafali Verma) বলেন, ‘ওখানে আর্দ্রতা বেশি ছিল। তাই নিজেকে একটু বেশি শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম। শুধু সুযোগ নেওয়া এবং ইনিংসটা গড়ে তোলাই লক্ষ্য ছিল। আমি সুযোগ পেয়েছি, সেটাকে কাজে লাগিয়েছি। প্রথম ছ’ওভারে আমরা যত বেশি সম্ভব রান করার চেষ্টা করছিলাম। পাওয়ারপ্লেতে ছক্কা মারাটা আমার কাজ। আমি সেটাই উপভোগ করছিলাম’।
শেফালি (Shafali Verma) ফিরে যাওয়ার পরে ভারতকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। প্রথম ১৮ বলে মাত্র ৬ রান করেছিলেন তিনি। শেষ দিকে অবশ্য গতি বাড়িয়ে পরের ১০ বলে করেন ১৮ রান। অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ রানে। ঋচা ঘোষ ১৬ বলে ২১ এবং দীপ্তি শর্মা মাত্র ছয় বলে ১৩ রান করেন। শেষ পাঁচ ওভারে ৫৩ রান তুলে ভারত পৌঁছে যায় ১৪৯/৬-এ।
ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত মনে করেন, ম্যাচে স্পিনারদেরই দাপট ছিল। তিনি বলেন, ‘ভাল বলের মূল্য থাকে। বল ঘুরিয়ে করতে পারলে সেই বলের আলাদা গুরুত্ব ছিল। দুই দলের স্পিনাররাই খুব ভাল বল করেছে। ব্যাটারেরা রান করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই উইকেটে স্পিনারদের জন্য অনেক কিছু ছিল এবং ওরা সেই সুবিধাটা খুব ভাল ভাবে কাজে লাগিয়েছে’।
আরও পড়ুন: ফের চোটের ধাক্কা ভারতীয় দলে, ছিটকে গেলেন হর্ষিত রাণা, পরিবর্ত যশ ঠাকুর
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। ষষ্ঠ ওভারে ২৬ রান উঠে গিয়েছিল। কিন্তু তার পরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভারতের হাতে। জুইরিয়া ফেরদৌসকে ১৪ রানে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন শ্রীচারণী। তার পর বল হাতে কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি।
পরের চার উইকেটের তিনটিই তুলে নেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটাররা কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি এলেও ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রানরেট নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। শেষ ওভারে ফিরে নন্দিনী শর্মা দু’টি উইকেট তুলে নেন। তাঁর শিকার রবিয়া খান হিট উইকেটও হন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে ১০৯/৭-এ থামে। দীপ্তির বোলিং পরিসংখ্যান ৩-২৬।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা ফিল্ডিংয়ে একাধিক সুযোগ নষ্ট করা এবং ব্যাট হাতে দল ভাল খেলতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।শেফালির (Shafali Verma) ৬৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস আর দীপ্তির তিন উইকেট—দুবাইয়ের সেমিফাইনালে এই দুই ভারতীয় তারকার দাপটেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল ভারত।
দেখুন: বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোয় গ্রেপ্তারের দাবিতে শুভেন্দু




