• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 10 September, 2026

‘ব্লাড ব্যাঙ্কের দরজা এ ভাবে বন্ধ করা যায়?’ স্বাস্থ্য দপ্তরকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা যেমন জরুরি। তেমনই একটি ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিষেবা বন্ধ করার আগে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে অনুসরণ করাও প্রয়োজন। এই ভারসাম্যের কথাই কার্যত মনে করিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

‘ব্লাড ব্যাঙ্কের দরজা এ ভাবে বন্ধ করা যায়?’ স্বাস্থ্য দপ্তরকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

Photo: স্বাস্থ্য দপ্তরকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের (AI)

রক্তের জন্য হাসপাতালের দরজায় ছুটে আসেন মুমূর্ষু রোগীর পরিজন। সেই রক্ত সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স অনিয়মের অভিযোগে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।

আপাতত ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স সাসপেন্ডের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল আদালত। এর মধ্যে গোটা ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে স্বাস্থ্য দপ্তরকে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। আদালতের বক্তব্য, অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা নিতে গিয়ে নির্দিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে চলা হয়েছে কি না, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, একই দিনে ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালানো হল। একই দিনেই অনিয়ম ধরা পড়ল। নথিপত্র জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠল এবং তার পরেই লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দেওয়া হল। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে নথি চেয়ে কোনও লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তার প্রমাণ কোথায়?

বিচারপতির প্রশ্ন, ‘একই দিনে ব্লাড ব্যাঙ্কে দল গেল। একই দিনে বেনিয়ম দেখা গেল। সেদিনই নথিপত্র জমা দেওয়া হল না এবং সেদিনই বন্ধ করে দেওয়া হল। তাদের কাছ থেকে নথি চেয়ে দেওয়া নোটিশ কোথায়? এটা কি সরকারের কাজের পদ্ধতি? একটা অভিযান হল, সবটাই কি মুখে মুখে? কোনও কাগজপত্র নেই?’

শুধু সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্ক নয়, প্রশাসনের কাজের পদ্ধতি নিয়েও এ দিন কড়া বার্তা দেন বিচারপতি। তাঁর মন্তব্য, ‘সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ রাখবেন না। এটা হতে পারে না। সতর্ক হন।’ আদালতের এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিষেবা সরাসরি মানুষের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা যেমন জরুরি। তেমনই একটি ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিষেবা বন্ধ করার আগে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে অনুসরণ করাও প্রয়োজন। এই ভারসাম্যের কথাই কার্যত মনে করিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন: ‘দেশ থেকে গায়েব হয়ে যাননি, খুঁজুন,’ বিডিও প্রশান্তকে খুঁজে না পেয়ে সিআইডি-কে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির

এখন স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টের দিকেই নজর। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরই স্পষ্ট হবে, অভিযানের পর লাইসেন্স সাসপেন্ড করার পুরো প্রক্রিয়ায় আদৌ নিয়ম মানা হয়েছিল কি না।