• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 10 September, 2026

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, প্রধানশিক্ষককে নিগ্রহের জের

দেড়শো বছরের পুরনো এই স্কুলে বহু কৃতী ছাত্র পাশ করে দেশ এবং বিদেশের নানা প্রান্তে কর্মরত। তাঁরাও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, প্রধানশিক্ষককে নিগ্রহের জের

School Education Minister Dipak Burman Photo-SNS

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধানশিক্ষককে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজমাধ্যমে। প্রধানশিক্ষককে পড়ুয়াদের ধাক্কা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। আর তাই রাত পোহালেই শুক্রবার স্কুলে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। আর আক্রান্ত প্রধানশিক্ষককে ১৫ দিনের জন্য ছুটিতে থাকতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে জেলা বিদ্যালয়ের পরিদর্শককে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন জেলাশাসক। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের সদস্যরা ডিএমের সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্তদের কাউন্সেলিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক অবক্ষয়কেই দায়ী করেছেন নানা মহলের ব্যক্তিত্বরা। আর তাই জেলাশাসকের নির্দেশ পেয়েই স্কুলে বৃহস্পতিবার গিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা শিক্ষাদপ্তর।

প্রধানশিক্ষককে এভাবে শারীরিক নিগ্রহ করা হতে পারে তা কেউ কল্পনাও করতে পারছেন না। শিক্ষক সম্মান-শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকেন। তাঁরা ছাত্রদের শিক্ষিত করে সমাজ গড়ে তোলেন। তাই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক মধুর হয়ে থাকে। সেখানে ছাত্রদের হাতে শিক্ষক নিগ্রহ মোটেই কাম্য নয়। এই বিষয়ে জলপাইগুড়ির জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী বলেন, ‘ওই ঘটনা অনভিপ্রেত। আমি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।’ আর অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক কাকলি মণ্ডলের বক্তব্য, ‘যেসব ছাত্ররা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে তাদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। কেন তারা এমন কাজ করল? সেটা আলোচনা করার দরকার আছে।’

এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই তা কানে যায় স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের। তাই ওই স্কুলে গিয়ে সবটা সরেজমিনে দেখতে চান তিনি। ছাত্র এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে চান মন্ত্রী। দেড়শো বছরের পুরনো এই স্কুলে বহু কৃতী ছাত্র পাশ করে দেশ এবং বিদেশের নানা প্রান্তে কর্মরত। তাঁরাও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘শিক্ষকের সম্মান ভুলুণ্ঠিত হলে আমাদের মর্ম কেঁপে ওঠে। আমাদের ঘরের সন্তান এসব দেখে বেড়ে উঠলে মূল্যবোধের বিনাশ হবে। এটা একটা সর্বনাশা উদাহরণ।’

তাছাড়া এই ঘটনার তদন্তের পর প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রধানশিক্ষক ধর্মচাঁদ বাড়ুইকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে কোনও পদক্ষেপ করার বদলে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার ১১টা নাগাদ স্কুলে আসবেন বলে সূত্রের খবর।