• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 10 September, 2026

বিদেশে পড়াশোনা-চাকরির টোপ, ইনস্টাগ্রামে ফাঁদ! নিউ মার্কেটের হোটেলে বন্দি একাদশের ছাত্রী, ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি

বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার টোপ। সেই প্রলোভনে পড়েই ইনস্টাগ্রামে তৈরি হয়েছিল ‘বন্ধুত্ব’।

বিদেশে পড়াশোনা-চাকরির টোপ, ইনস্টাগ্রামে ফাঁদ! নিউ মার্কেটের হোটেলে বন্দি একাদশের ছাত্রী, ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি

Photo: Cyber Scam (AI নির্মিত ছবি)

বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার টোপ। সেই প্রলোভনে পড়েই ইনস্টাগ্রামে তৈরি হয়েছিল ‘বন্ধুত্ব’। শেষ পর্যন্ত সেই বন্ধুত্বই পরিণত হল ভয়ঙ্কর ফাঁদে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলকাতায় এসে নিউ মার্কেটের কাছের একটি হোটেলে উঠেছিল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ, সেখানেই তার ফোন হ্যাক করে পরিবারকে ফোন করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সাইবার অপরাধীরা। টাকা না দিলে কিশোরীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় নিউ মার্কেট এলাকার ওই হোটেল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে নাবালিকাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জগৎবল্লভপুরের শঙ্করহাটি-২ এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরী একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তরা। বিদেশে পড়াশোনা এবং চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে কলকাতায় আসতে বলা হয়। সেই প্রলোভনে পড়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর সমস্ত নথিপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে কিশোরী। শঙ্করহাটি-২ থেকে ধর্মতলায় পৌঁছনোর পর তার জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই গাড়িতেই তাকে নিউ মার্কেটের কাছের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একাই হোটেলে ওঠে সে।

এর পরেই শুরু হয় আসল বিপদ। অভিযোগ, কিশোরীর মোবাইল ফোন হ্যাক করে নেয় সাইবার অপরাধীরা। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মেয়েকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ৭ সেপ্টেম্বর জগৎবল্লভপুর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। মুক্তিপণের ফোন আসতেই তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর তদন্তে নামে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সাইবার শাখা, রাজ্য পুলিশের শিশু কল্যাণ কমিটি এবং জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে মুক্তিপণের ফোন নম্বর থেকে। পুলিশ জানতে পারে, যে নম্বর থেকে পরিবারকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি আসলে ওই কিশোরীর নিজের ফোন নম্বর। প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে রয়েছে সে।

বুধবার রাতে ওই হোটেলে হানা দেয় পুলিশ। ঘরের ভিতর একাই পাওয়া যায় কিশোরীকে। তবে অভিযুক্তদের কাউকেই সেখানে পাওয়া যায়নি। নিরাপদে উদ্ধার করে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার পিছনে বিহার, উত্তরপ্রদেশ অথবা হরিয়ানা থেকে পরিচালিত আন্তঃরাজ্য অপরাধী চক্রের যোগ থাকতে পারে। অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং খুনের হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।

হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার অমিত বর্মা জানিয়েছেন, কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হয়। মেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তিতে পরিবার।