• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 10 September, 2026

‘দেখবেন উপনির্বাচনে এই গেরুয়াধারীরা কী অবস্থা করে’, বাম বিধায়ককে তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর

এখানেই শেষ নয়, আরও বেশ কয়েকটি কড়া কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা কক্ষে দাঁড়িয়ে তোপ দাগেন

‘দেখবেন উপনির্বাচনে এই গেরুয়াধারীরা কী অবস্থা করে’, বাম বিধায়ককে তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের সূচনাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানার খোঁচা আসতেই চোখা চোখা বাক্যবাণে তাঁকে বিদ্ধ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তার জেরে অধিবেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কড়া ভাষায় তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী এই বাম বিধায়ককে। গোটা বিধানসভা কক্ষে তখন চড়া সুর শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর। গেরুয়া নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলে আক্রমণ করেন বাম বিধায়ক। তার পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই সুর সপ্তমে তোলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। অধ্যাপক বদলি বিল নিয়ে চর্চা চলাকালীন ডোমকলের বিধায়কের আক্রমণ, ‘মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন।’ তখনই পালটা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, ‘তোষণের রাজনীতির জন্যই আজ আপনাদের এই অবস্থা। দেখবেন উপনির্বাচনে এই গেরুয়াধারীরা কী অবস্থা করে। রেড স্যালুট কিষানজি। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে— লিখলে আমরাই টুকরো করে দেব আপনাদের। আমরা গান্ধীজির ভাষায় কথা বলব না। হস্টেল থেকে নিয়ে যাবে।’

অন্যদিকে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের বদলি বিষয়ক বিল পেশ হয়েছে বিধানসভায়। এই বিল পাশ হলে রাজ্যের যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের। রাজ্য সরকারের দাবি, এই বিল পাশ হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে। তার জেরে পড়ুয়ারাও উপকৃত হবে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। বিধানসভায় এই বিল নিয়ে বিরোধীদের দাবি, এটা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার হরণের চেষ্টা। যেটা বেআইনি। অধ্যাপকরা বা শিক্ষাকর্মীরা জানতেন তাঁরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন সেখান থেকেই অবসর নেবেন। আর এখানেই শুরু হয় সমস্যা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর থাকলে আধিপত্য তৈরি হয়। যা পরে সমস্যার কারণ হয়। তবে নানা ভাবনাচিন্তা করেই পেশ করা হয় ‘বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক বদলি’ বিল। এতে শূন্যপদের ভিত্তিতে বদলি করা যাবে অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের।

তাছাড়া এই বিলে সুবিধার থেকে অসুবিধাই বেশি বলেই দাবি করেন বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রানা। আর তখনই বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রানা খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন। এই বিল কতটা স্বাধীন সত্ত্বা বজায় রাখবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলির কোনও নিয়ম নেই। মাঝপথে তো চাকরির শর্ত ভাঙা যায় না। এই বিল পাশ হলে নিয়োগের শর্ত ভাঙবে। যাঁরা গবেষণার কাজে যুক্ত সেইসব অধ্যাপকদের হঠাৎ করে বদলি করে দিলে পড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে সরকার হাতে নিলে সেটা বেআইনি।’ যার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, ‘একশ্রেণীর অধ্যাপক বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে আছেন। শারদোৎসব লিখলে, দুর্গাপূজা না লিখলে একটা স্টলও করতে দেব না। এক একটা সিপিএম নেতার বাড়িতে ২০টা করে লোক চাকরি করে। শুধু ১৫ বছর না ৩৪ বছরের খতিয়ান বের করতে হবে। সমস্যা হলে চাকরি ছেড়ে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে নিন। গণশক্তি বিক্রি করুন।’

এখানেই শেষ নয়, আরও বেশ কয়েকটি কড়া কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা কক্ষে দাঁড়িয়ে তোপ দাগেন, ‘মুস্তাফিজুর রানা ও নওশাদ সিদ্দিকি বুঝতে পারছেন, এই বিলটা কোথায় আঘাত করবে। আমাদের দেখতে হবে ঋষি অরবিন্দের তৈরি যাদবপুরকে আমরা সেন্টার অফ এক্সিলেন্স করব। হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ভারত সরকার। রাজ্য ৩০০ কোটি দেবে। আর আপনারা জোর করে হস্টেল থেকে ছাত্রদের নিয়ে যাবেন? ওরা বলবে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? সবাইকে টুকরো করে দেব। সবকিছুর সীমা আছে একটা। যাঁরা সমাজ বদল করতে চান, তাঁদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেব। আপনারা সেখানে গিয়ে নিজেদের মেধা ব্যবহার করুন।’