• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সরব নিউ সাউথ ওয়েলস, আইপিএলের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

এখানেই রয়েছে বড় প্রশ্ন। তবে উত্তরটা হল, এখনই নয়। কারণ, বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি

বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সরব নিউ সাউথ ওয়েলস, আইপিএলের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

New South Wales Opposes BBL Privatisation Photo-SNS

বিগ ব্যাশ লিগ বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে নতুন সংঘাত। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বেসরকারি বিনিয়োগের পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই তীব্র আপত্তি জানাল নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেট। তাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের তৃণমূল স্তরে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গোটা ক্রিকেট-ব্যবস্থা।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্য নিজেদের বিগ ব্যাশ দলের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এই মডেলের অধীনে প্রথম দল হিসাবে মেলবোর্ন রেনেগেডসের ১০০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা। নতুন মালিক ২০২৭-২৮ মরসুম থেকে দায়িত্ব নিতে পারেন।

কিন্তু নিউ সাউথ ওয়েলস শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে এসেছে। তাদের অধীনে থাকা সিডনি সিক্সার্স এবং সিডনি থান্ডার—দুই দলই নিজেদের আর্থিক ভাবে সফল বলে মনে করে রাজ্য ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, ‘অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের সঙ্গে কোনও ঐকমত্য ছাড়াই বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। এই সিদ্ধান্ত নিউ সাউথ ওয়েলস এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে কৌশলগত ও আর্থিক ভাবে আরও দুর্বল করে দিতে পারে’।

তাদের আরো বক্তব্য, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস বোর্ড হতাশ। আমরা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে সরাসরি আমাদের উদ্বেগ জানিয়েছি, বিগ ব্যাশকে শক্তিশালী করার বিকল্প পথের প্রস্তাব দিয়েছি এবং এই পরিকল্পনার মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলিও তুলে ধরেছি— যে মতামত বাইরের কার্যকরী পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি’।

এবার কি আইপিএল মালিকদের নজরে বিগ ব্যাশ?

আইপিএলের দলগুলির মালিকানা ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার SA20, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ILT20, আমেরিকার MLC, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিগে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই তালিকায় এ বার যোগ হতে পারে বিগ ব্যাশও।

রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ এবং GMR/JSW-র মতো ভারতীয় গোষ্ঠীগুলি ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত। বিগ ব্যাশের দরজা খুলে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও তাঁদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হল।

আইপিএলের কোনও মালিক বিগ ব্যাশের দল কিনলে সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে ক্রিকেটারদের নিয়ে। একই মালিকানার অধীনে বিশ্বের অন্যান্য লিগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার সুযোগ তৈরি হবে। ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড বা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ক্রিকেটারকে একই ব্র্যান্ডের বিভিন্ন দলের হয়ে খেলানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া পুরো নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সূচি, ক্রিকেটারদের সূচি, সম্প্রচার স্বত্ব এবং বেতনসীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিজেদের হাতেই রাখবে তারা। কোনও বিনিয়োগকারীকে দল কেনার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে অস্ট্রেলীয় বোর্ডের হাতে।

মেলবোর্ন রেনেগেদসের জন্য এখনও কোনও দরপত্র জমা পড়েনি। তবে একটি বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে। অন্য দলগুলির ক্ষেত্রে মালিকানার কাঠামো অবশ্য আলাদা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটারদের কি দেখা যাবে বিগ ব্যাশ-এ?

এখানেই রয়েছে বড় প্রশ্ন। তবে উত্তরটা হল, এখনই নয়। কারণ, বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি দেয় না বিসিসিআই। ফলে কোনও আইপিএল মালিক বিগ ব্যাশের দল কিনলেও বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা বা অন্য ভারতীয় তারকাদের সেখানে খেলার রাস্তা খুলবে না। আপাতত অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারবেন আইপিএল মালিকেরা।

ভবিষ্যতে বিসিসিআই যদি চুক্তির বাইরে থাকা ক্রিকেটার বা অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলার বিষয়ে নিয়ম কিছুটা শিথিল করে, তখন বিগ ব্যাশ-এ বিনিয়োগ করা আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি বড় সুবিধা পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণ শুধু দলগুলির মালিকানা বদল নয়, গোটা বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের শক্তির ভারও আরও এক ধাপ বদলে দিতে পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের দেশেই বিরোধিতার মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তারা এই বিরোধিতা সামলাতে না পারলে আবার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলবে না তো?