• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 8 September, 2026

হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সফর ঘিরে বিতর্ক, নারী কর্মীদের সরানোর অভিযোগ বন্ধ আইফেল টাওয়ার

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা

হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সফর ঘিরে বিতর্ক, নারী কর্মীদের সরানোর অভিযোগ বন্ধ আইফেল টাওয়ার

Image: IANS

বিতর্কের জেরে বন্ধ ঐতিহ্যের আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower)।হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower)পরিদর্শনে যায়। সেই সফরের সময় নারী কর্মীদের সেখানে থেকে সরে যেতে বলার অভিযোগ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল প্যারিসের আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower)। কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা (Eiffel Tower)। ঘটনার প্রতিবাদে কর্মীরা বিক্ষোভ ও বৈঠকে করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে কর্মীদের মধ্যে এবং ফরাসি রাজনীতিকদের একাংশও এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

শনিবার প্রায় ১০০ জনের হিন্দু সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়। প্রতিনিধিদলটির সঙ্গে বিএপিএস বা বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থার(BAPS) যোগ রয়েছে বলে খবর। প্যারিসে একটি হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তারা এসেছিল।

এ নিয়ে সরব হয়েছে সিজিটি ট্রেড ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, হিন্দু সংগঠনটি (BAPS) আইফেল টাওয়ারের (Eiffel Tower)বিভিন্ন অংশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে কর্মরত নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়। তাঁদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়।

ইউনিয়নের প্রতিনিধি ডায়ান দাভোয়েন এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলটি (BAPS) যাওয়ার সময় নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়, যাতে তাঁদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো যায়।

তাঁর দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সোমবার কর্মীরা বৈঠক করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে সংস্থার কোনও নারী কর্মীকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে না পড়তে হয়, তা নিশ্চিত করা হয় ।

কর্মীদের বৈঠকের কারণে সোমবার আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower) খোলার সময় পিছিয়ে যায়। স্মৃতিস্তম্ভের বাইরে টাঙানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার কারণে আইফেল টাওয়ার খোলায় দেরি হচ্ছে।‘ ইউনিয়নের এক প্রতিনিধির দাবি, ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে।

আরও পড়ুন: ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রিকস সম্মেলন, তার আগে চাবাহার বন্দরে জোর ইরানের

বিএপিএসের (BAPS) বক্তব্য

অন্যদিকে, বিএপিএস (BAPS) জানিয়ে, বড় প্রতিনিধিদলের সফরের কারণে যাতে সাধারণ দর্শনার্থীদের অসুবিধা না হয়, সেজন্য আইফেল টাওয়ার (Eiffel Tower) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সফরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বিবৃতিতে সংগঠনটি (BAPS) জানায়, সাধারণ দর্শনার্থীদের অসুবিধা কমাতে আইফের টাওয়ারের (Eiffel Tower) নিয়মিত খোলার সময়েই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সফরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তবে বিএপিএস (BAPS) দাবি করেছে, নারী কর্মীদের কর্মস্থল ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল বা কোনও দর্শনার্থীকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল, এমন কোনও ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নয়।

তা সত্ত্বেও, এই ঘটনায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে বা অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। বিএপিএস জানিয়েছে, তারা পারস্পরিক সম্মান ও অন্যের সেবার নীতিতে বিশ্বাসী এবং এই ঘটনায় ওঠা অভিযোগগুলিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তদন্তের নির্দেশ প্যারিস কর্তৃপক্ষের

এই অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেপোয়ার। কর্মীদের উদ্বেগকে তিনি যথার্থ বলেও উল্লেখ করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে গ্রেগোয়ার জানান, কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি তিনি লক্ষ্য করেছেন এবং তাঁদের অসন্তোষকে যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে করছেন।

তিনি এক্সে লেখেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’। তাঁর মতে, এই ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ বা আইফেল টাওয়ারে প্রতিনিধিত্ব করা মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি আরও বলেন, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রত্যেকেরই বৈষম্য ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ ও চলাফেরার অধিকার রয়েছে। প্যারিসের সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনাগুলিতেও নারী-পুরুষের সমতা বজায় রাখা জরুরি।ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি

শ্রমিক সংগঠন সিজিটি অভিযোগ করেছে, কর্মক্ষেত্রে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে নারী কর্মীদের শুধুমাত্র তাঁদের লিঙ্গের কারণে সরিয়ে দেওয়া, তাঁদের জায়গায় অন্যদের বসানো এবং কার্যত অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছিল।

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা ‘সোসিয়েতে দ্য এক্সপ্লয়টেশন দ্য লা তুর আইফেল’ বা সেটে জানিয়েছে, সফরকারী প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে ‘মেলামেশা বা যোগাযোগ সীমিত রাখার’ অনুরোধ করা হয়েছিল।

সংস্থাটি স্বীকার করেছে, এই ধরনের শর্ত গ্রহণ করা উচিত হয়নি। তবে প্রতিনিধিদলটি কেন নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখতে চেয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। সেটের প্রেসিডেন্ট আরিয়েল ভেইল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করা হবে। তাঁর কথায়, কী ঘটেছিল তা স্পষ্ট করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: যৌন হেনস্থার অভিযোগ জেএনইউ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে, নালিশ ১১ পড়ুয়ার, তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি

ফরাসি নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি নিয়ে ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবি মেটাতে কোনও নারীকে সরে দাঁড়াতে বলা হবে, এমন বিষয় তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তাঁর বক্তব্য, অন্যকে স্বাগত জানানো মানে কখনওই নিজেদের মূল্যবোধ থেকে সরে আসা নয়। ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কেউ তাঁদের সরে যেতে বলতে পারে না।

উল্লেখ্য রবিবার প্যারিসের কাছে বিএপিএসের (BAPS) প্রথম বড় হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মন্দির ভারতের প্রাচীন চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধকে ফ্রান্সের মাটিতে পৌঁছে দেবে। পাশাপাশি ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

দেখুন: