এক দিকে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্য দিকে ভারত। র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। কিন্তু ফুটবল যে সব সময় অঙ্ক মেনে চলে না, সেটাই মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু (Brazilian football legend Cafu)। কলকাতায় ঐতিহাসিক ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আগে তাঁর পরামর্শ, এই ম্যাচ থেকে ভারতীয় ফুটবলের অনেক কিছু শেখার আছে।
৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম বার সিনিয়র পর্যায়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারত। সেই ম্যাচ নিয়ে কাফু (Brazilian football legend Cafu) বললেন, ‘আশা করি ভারত ও ব্রাজিল দারুণ একটা ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের এবং ভারতীয় দলের জন্য অনেক ভাল কিছু নিয়ে আসবে। কারণ, ভারত এমন একটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে যারা পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’
তবে দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানটাও অস্বীকার করছেন না প্রাক্তন ব্রাজিল অধিনায়ক (Brazilian football legend Cafu)। তাঁর কথায়, ‘র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে ব্রাজিল ও ভারতের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু ফুটবল এখন অনেক আধুনিক হয়েছে।’ কাফুর কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিত, এই ম্যাচে অঘটন ঘটতেও পারে।
শুক্রবার ভারত সফরে এসেছেন ২০০২-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলের অধিনায়ক কাফু (Brazilian football legend Cafu)। গিয়েছিলেন নভি মুম্বাইয়ের পিল্লাই বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই তিনি কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
Mumbai, Maharashtra: Brazilian football legend and two-time FIFA World Cup winner Cafu visited Mumbai and travelled by taxi to meet young football players from the city’s slums. Cafu played a friendly football match with players from the Dreaming in Slums Foundation and… pic.twitter.com/7DEtSYZOdu
— IANS (@ians_india) September 5, 2026
কাফুর মতে, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য প্রথম প্রয়োজন আরও বেশি শিশুকে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করা। তিনি বললেন, ‘ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে হবে। শিশুদের ফুটবল খেলতে উৎসাহ দিতে হবে, খেলাটার প্রচার করতে হবে এবং বিশ্বের সেরা ফুটবল স্কুলগুলির কাছ থেকে শিখতে হবে।’
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চিন কী ভাবে ফুটবলে উন্নতি করেছে, তা দেখে শেখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘সহজ উদাহরণ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চিন। ওরা ব্রাজিলীয় কোচ ও ফুটবলারদের নিয়ে এসেছিল এবং ফুটবলকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। এর ফলে ওই দেশগুলির ফুটবলের উন্নতি হয়েছে। ভারতও একই কাজ করতে পারে’।
বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও ভারতের মতো দেশগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কাফু। ২০২৬-এর ৪৮ দলের বিশ্বকাপের পর ২০৩০ থেকে দলসংখ্যা ৬৪ করার প্রস্তাব রয়েছে ফিফার। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কাফু মনে করেন, বিশ্বকাপে আরও দেশের জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ভারতেরও লাভ হবে।
‘আজকাল সবাই সমান ভাবে খেলছে। বিশ্বকাপে কুরাসাও এবং কেপ ভার্দের মতো দলকে বড় জাতীয় দলের বিরুদ্ধে সমান তালে খেলতে দেখেছেন। ফিফা যখন বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্য দেশগুলির জন্য জায়গা তৈরি করছে, তখন এই সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে,’ বলেছেন তিনি।
এই সফরে বাংলাতেও আসছেন কাফু (Brazilian football legend Cafu)। মুাম্বই থেকে রবিবার তিনি পৌঁছবেন দার্জিলিঙে। রবিবার রাতে দার্জিলিঙেই থাকবেন কাফু (Brazilian football legend Cafu)। এক পুরনো চা-বাগান সংস্থা আরিয়া টি কোম্পানি লিমিটেডের হাত ধরে সেখানে প্রায় ৪০ একর জমির উপর তৈরি হতে চলেছে ‘সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসর্ট’। পাহাড়ের ফুটবল প্রতিভাকে তুলে আনতেও বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে তারা । তাদের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে দু’টি ফুটসল দলে। দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এবং নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্স। ৬ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন কিংবদন্তি কাফু।
আরও পড়ুন: অক্টোবরেই শুরু আইএসএল, ফিরছে প্লে-অফ, ক্লাব-নিয়ন্ত্রিত লিগে শিল্ডের সঙ্গে কাপ জয়েরও লড়াই
কলকাতাতেও কর্মসূচি রয়েছে ব্রাজিলের কিংবদন্তির (Brazilian football legend Cafu)। আগামী সোমবার বিএনসিসিআই (BNCCI)-তে ভারতীয় ফুটবলের আগামী দিনের রোডম্যাপ এবং ফুটবল বাণিজ্য শীর্ষক একটি আলোচনা চক্রে অংশ নেবেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও সেখানে দেখা হতে পারে কাফুর।
ব্রাজিলের ফুটবলে সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের অন্যতম কাফু (Brazilian football legend Cafu)। ১৯৯৪-এ প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে অংশ নেন তিনি। ২০০৬ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপেই অংশ নিয়েছিলন। ১৯৯৪ ও ২০০২-এর বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য কাফু (Brazilian football legend Cafu)। তিনিই একমাত্র ফুটবলার যার পরপর ৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০০২-এর পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। সেই খরা নিয়েও মুখ খুলেছেন দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী। কাফুর কথায়, ‘ব্রাজিল জাতীয় দল কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ২৪ বছরেরও বেশি সময় হয়ে গিয়েছে, এ বার ২৮ বছর পূর্ণ হতে চলেছে বিশ্বকাপ না জিতে।’
তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে তাঁর সময়ের তুলনা করাও ঠিক নয়। বলেন, ‘আমাদের সময়ের সঙ্গে এখনকার সময়ের তুলনা করা যায় না। আমরা টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিলাম। সেই সময় চলে গিয়েছে। এখন নতুন প্রজন্ম, নতুন ফুটবলার। আমাদের জোর দিয়ে প্রার্থনা করতে হবে, যাতে এই নতুন প্রজন্ম আমাদের মতো সাফল্য পায় এবং বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছতে পারে।’
বিশ্বকাপ জেতার ক্ষেত্রে শুধু সেরা দল হওয়াই যথেষ্ট নয় বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন কাফু (Brazilian football legend Cafu)। বলেন, ‘বিশ্বকাপ কোনও নির্দিষ্ট বিজ্ঞান নয়। সব সময় সেরা দল জেতে না, আবার চ্যাম্পিয়নও সব সময় সেরা দল হয় না। বিশ্বকাপ জিততে অনেকগুলি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে’। তাঁর আশা, ২০২৮ সালে বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল ২৮ বছরের খরা কাটাবে।
দেখুন:




