• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 5 September, 2026

৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার হিসাব জানিয়ে রাষ্ট্রসংঙ্ঘে চিঠি নেপালের

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৭৯৬ কোটি টাকা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে

৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার হিসাব জানিয়ে রাষ্ট্রসংঙ্ঘে চিঠি নেপালের

Image: SNS

পরিবেশ দূষণে নেপালের ভূমিকা অন্যদেশের তুলনায় অনেকটাই কম। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশ। সাম্প্রতিক ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) ভোটেকোশী নদীর কাছাকাছি এলাকা একেবারে তছনছ হয়ে গিয়েছে। হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ সাড়ে চার হাজারেরও বেশি। এবার জলবায়ুর পরিবর্তন এবং তার থেকে এই ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ চাইতে চলেছে নেপাল সরকার।

হিমালয়ের হিমবাহ ভেঙে নেমে আসা হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) ভেসে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং জনবসতি। নেপালের দাবি, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে তাদের অবদান খুবই কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হচ্ছে তার ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সহ্য করতে হচ্ছে তাদের দেশকেই।

আরও পড়ুন: নেপালে উদ্ধার আরও ৩ ভারতীয়, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার ১৬৯, জানাল বিদেশমন্ত্রক

ভোটেকোশী বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতির (Nepal Flash Flood) পরিমাণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে নেপাল সরকার। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৭৯৬ কোটি টাকা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঙ্ঘের (UN) ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিলের কাছে এই হিসাব পাঠানো হয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগেল এবং পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী তহবিলের বোর্ডকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার কথা জানিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে সাহায্য করতেই এই আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা হয়েছে।

বিপর্যয়ের পর (Nepal Flash Flood) ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকেও পাঠানো হয়েছে ত্রাণসামগ্রী। তবে শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণে সন্তুষ্ট নয় কাঠমান্ডু। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে কোনও ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির জন্য স্থায়ী আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চায় নেপাল।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসংঙ্ঘে যাচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যা নিয়ে অধিবেশনে সরব হওয়ার সম্ভাবনা

ভারত, চিন এবং আমেরিকার পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী করেছিল নেপাল সরকার। তবে পরে সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট দেশের কাছ থেকে সরাসরি ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পরিকল্পনা নেই। রাষ্ট্রসংঙ্ঘের (UN) নির্ধারিত কাঠামোর মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হবে।

রাষ্ট্রসংঙ্ঘের (UN) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। আর সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর। ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।

শুক্রবার পর্যন্ত নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দুর্গত এলাকা থেকে ১,২৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও ৫,৩০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ। কাদামাটি, পাথর এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধারকাজ চলছে। ফলে যত সময় গড়াচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

দেখুন: