• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 4 September, 2026

ভারতের হারের উদাহরণ টেনে পাকিস্তানের ভরাডুবি নিয়ে এ কী বললেন মহসিন নকভি! তাঁর বিবৃতি নিয়ে উঠল ঝড়

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুই টেস্টে দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তার পরেই সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও বিতর্ক বাড়িয়েছে। প্রাক্তন অধিনায়ক থেকে প্রাক্তন কোচ—অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পিসিবির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন নিয়ে।

ভারতের হারের উদাহরণ টেনে পাকিস্তানের ভরাডুবি নিয়ে এ কী বললেন মহসিন নকভি! তাঁর বিবৃতি নিয়ে উঠল ঝড়

Photo: X

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পর পর দু’টি টেস্টে লজ্জার হার। তার পরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে বড়সড় ‘অপারেশন’। সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ, কোচিং স্টাফে বদল— সব মিলিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু সেই সমালোচনায় কান দিতে নারাজ পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। বরং সমালোচকদের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তিনি— ভারত আয়ারল্যান্ডের কাছে হারলে যদি ক্রিকেট শেষ না হয়ে যায়, তা হলে পাকিস্তানের ক্ষেত্রেই বা এমন কথা উঠবে কেন?

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। পর পর এমন বিপর্যয়ের পর মাঝ সিরিজেই দলে বড় পরিবর্তন করে পিসিবি। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বদলানো হয়েছে কোচিং স্টাফেও। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইক হেসনকে। নির্বাচক মিসবাহ-উল-হকও পদ ছেড়েছেন।

এই সিদ্ধান্ত নিয়েই পাকিস্তানে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একাংশ পিসিবির এই পদক্ষেপকে ‘প্যানিক বাটন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একটি সিরিজের মাঝপথে এত বড় পরিবর্তন করে আদৌ দলের ভাল করা কি সম্ভব?

নকভি অবশ্য সেই সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, ক্রিকেটে খারাপ সময় আসতেই পারে। একটি বা দু’টি হারে কোনও দলের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায় না।

সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘ভারত আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছে। তাতে কি ক্রিকেট শেষ হয়ে গিয়েছে? দক্ষিণ আফ্রিকাও হেরেছে। তা হলে কি তাদের ক্রিকেটও শেষ?’

তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তান ক্রিকেটেও পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। আর সেই পরিবর্তন করতেই বোর্ড কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নকভি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছেন না, তাঁদের জায়গায় নতুনদের সুযোগ দেওয়া দরকার।

সমালোচকদের আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, ‘যাঁরা জীবনে কোনও কিছু অর্জন করতে পারেননি, তাঁরাই অন্যদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন’। তাঁর দাবি, দলের পাশে দাঁড়ানোর বদলে লাগাতার নেতিবাচক প্রচার ক্রিকেটারদের মনোবল আরও কমিয়ে দেয়।

তবে পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যে যথেষ্ট উদ্বেগজনক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুই টেস্টে দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তার পরেই সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও বিতর্ক বাড়িয়েছে। প্রাক্তন অধিনায়ক থেকে প্রাক্তন কোচ—অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পিসিবির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন নিয়ে।

নকভি অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর মতে, দলের সংস্কার মানেই পাকিস্তান ক্রিকেট শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং পুরনো ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে নতুন ভাবে দল গড়ার চেষ্টা চলছে। কে দলে থাকবেন, কে বাদ পড়বেন— সেটা ঠিক হবে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।

অর্থাৎ, সমালোচনার ঝড় যতই উঠুক, আপাতত পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত নেই পিসিবি চেয়ারম্যানের। বরং তাঁর বার্তা স্পষ্ট— হার মানেই ক্রিকেট শেষ নয়, কিন্তু ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না নিলে সমস্যা আরও বড়।