• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 4 September, 2026

প্লেটে চিকেন, বিরিয়ানি—মাংসটা আদৌ নিরাপদ তো? রাজ্যজুড়ে রেস্তরাঁয় হানা, বাতিল ১৩ ইউনিটের লাইসেন্স

তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাচ্ছেন চিকেন উইংস, বিরিয়ানি। মাঝে-সাঝে গলা ভেজাতে হাতে তুলে নিচ্ছেন ভার্জিন মোহিতো। প্রিয় রেস্তরাঁয় বাজছে মিষ্টি-মধুর গান।

প্লেটে চিকেন, বিরিয়ানি—মাংসটা আদৌ নিরাপদ তো? রাজ্যজুড়ে রেস্তরাঁয় হানা, বাতিল ১৩ ইউনিটের লাইসেন্স

PIC- AI

তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাচ্ছেন চিকেন উইংস, বিরিয়ানি। মাঝে-সাঝে গলা ভেজাতে হাতে তুলে নিচ্ছেন ভার্জিন মোহিতো। প্রিয় রেস্তরাঁয় বাজছে মিষ্টি-মধুর গান। খাওয়াদাওয়ার এই আরামে কখনও কি ভেবেছেন, যে চিকেনটা চিবোচ্ছেন, সেটা আদৌ ভালো তো? কিংবা বিরিয়ানির প্লেটে থাকা সেই বড় মাংসের টুকরোটা যে মুখ দিয়ে ছিঁড়লেন, সেটি কেমন মাংস? আদৌ খাওয়ার উপযোগী তো?

এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে। রাজ্যের বিভিন্ন রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে সামনে আসছে একের পর এক বেনিয়মের অভিযোগ। কোথাও মিলছে পচা মাংস, কোথাও ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী। খাবারের পাশাপাশি পানীয় জল নিয়েও উঠছে অভিযোগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দফতর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে মোট ১৭৩০টি খাদ্যকেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ১৫২৫টি কেন্দ্রে কোনও না কোনও অনিয়ম ধরা পড়েছে। এর জেরে ১৩টি ফুড প্রসেসিং ইউনিটের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিলের পদক্ষেপ করা হয়েছে।

যে পাঁচটি রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মধ্যমগ্রামের ‘রঙ দে বসন্তি ধাবা’, সেক্টর ফাইভের আরডিবি মলের ‘অ্যাবসিলিউট বারবিকিউ নেশন’, মধ্যমগ্রামের ‘জাস্ট বাঙালি’, সোদপুরের ‘বারবিকিউ নেশন’ এবং সেক্টর থ্রি-র ‘চৌরাসিয়া চাটস’।

এছাড়াও ১৩টি ফুড প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছ’টি জলের কারখানাও রয়েছে। অর্থাৎ রেস্তরাঁর খাবার থেকে শুরু করে পানীয় জল খাদ্য সুরক্ষার একাধিক ক্ষেত্রেই অনিয়মের ছবি সামনে এসেছে।

জেলা ধরে অভিযানের রিপোর্টেও মিলেছে উদ্বেগজনক তথ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২১৫টি দোকানে অনিয়ম ধরা পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় এই সংখ্যা ১২৮। পূর্ব বর্ধমানে ১২৯, কলকাতায় ৯৬, পশ্চিম বর্ধমানে ৬৫, নদিয়ায় ৬০, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫১, কোচবিহারে ৮৩ এবং বসিরহাটে ৭৭টি দোকানে অনিয়মের সন্ধান মিলেছে। সবথেকে বেশি অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে ডায়মন্ড হারবার এলাকায়।

তবে অভিযানের অর্থ যে রাতারাতি সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া নয়, সেটাও স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সংশোধনের জন্য ব্যবসায়ীদের সময় দেওয়া হচ্ছে। কারণ, “সবাই ব্যবসা করছে। অনেক লোকের রুটি-রুজি চলে। অনেকের উনুন এই ব্যবসার জন্যই চলে।”

অর্থাৎ নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা যেমন নেওয়া হবে, তেমনই সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার মাঝেই ক্রেতাদের প্রশ্ন একটাই রেস্তরাঁয় বসে পছন্দের খাবারে কামড় বসানোর আগে, সেই খাবার কতটা নিরাপদ, তা কি আদৌ জানেন তাঁরা?