• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 3 September, 2026

কোনো দেশেরই ইরানকে সাহায্য করা উচিত নয়, রুবিওর ‘নিষেধাজ্ঞা’র হুঁশিয়ারি

‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’ নামে ওই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের বাকি অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আয়ের পথগুলি যতটা সম্ভব বন্ধ করে দেওয়া। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশ ও সংস্থাগুলিকে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

কোনো দেশেরই ইরানকে সাহায্য করা উচিত নয়, রুবিওর ‘নিষেধাজ্ঞা’র হুঁশিয়ারি

File Photo

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের পর ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল আমেরিকা। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও কোনও দেশ যদি ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তবে মোদী ও পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বৈঠকে কোনও বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিওর সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্টও ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক মোদীর। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পরে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বাণিজ্যচুক্তির কোনও উল্লেখ ছিল না। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানো এবং তা বৈচিত্রপূর্ণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ইরান সূত্রে খবর। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ইরানের সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপরেও জোর দেন দুই নেতা। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা ও কূটনীতির পথের উপর গুরুত্ব দেয় ভারত। এই বৈঠকের পরেই আমেরিকার তরফে নতুন করে সতর্কবার্তা আসায় বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ রেডিও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়, ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনও নতুন বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, তাঁর এমনটা মনে হয় না। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি দেশেরই নিজেদের বিদেশনীতি নির্ধারণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অধিকার রয়েছে। ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ যোগাযোগ রাখে, এমনকি আমেরিকাও অতীতে তেহরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে জানান তিনি।

কিন্তু বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘লাল দাগ’ স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ ইরানকে এমন কোনও ব্যবস্থা তৈরিতে সাহায্য করতে পারবে না, যার মাধ্যমে তেহরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে। সেই অর্থ ইরান সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে ওয়াশিংটনের আশঙ্কা। রুবিওর হুঁশিয়ারি, কোনও দেশ এমন কাজে ইরানকে সাহায্য করলে তাদের বিরুদ্ধেও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে ইতিমধ্যেই নতুন অভিযান শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ‘অপারেশন ইকনমিক আউটকাস্ট’ নামে ওই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের বাকি অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আয়ের পথগুলি যতটা সম্ভব বন্ধ করে দেওয়া। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশ ও সংস্থাগুলিকে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এর মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য সমীকরণটি যথেষ্ট কঠিন।

আরও পড়ুন: হড়পা বানের ক্ষত শুকোনোর আগেই কাঁপল তিব্বত, সতর্ক নেপাল-চিন

ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলে চাবাহার বন্দর গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই বন্দরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ফলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় না পড়ার ভারসাম্যই এখন নয়াদিল্লির বড় চ্যালেঞ্জ।