ট্রাক চালকদের থেকে টাকা তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সেই অভিযোগ উঠত পুলিশের বিরুদ্ধে। এবার ট্রাফিক গার্ডদের হয়ে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠল। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাওড়ার এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করল রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা (এসিবি)। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম সঞ্জীব। টাকা তোলার সময়ই এই যুবককে বমাল ধরেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কিন্তু এমন ঘটনা কেন ঘটত? এটা তো চূড়ান্ত দুর্নীতি। এই খবর পৌঁছে গিয়েছিল দুর্নীতিদমন শাখার কাছে। তদন্তে নেমে তাঁরা জানতে পারেন অভিযোগ সঠিক। তারপরই অভিযানে নেমে গ্রেপ্তার করা হলো যুবক সঞ্জীবকে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, হাওড়া, কলকাতা, বারুইপুর এবং বিধাননগর ট্রাফিক গার্ডের হয়ে ওই ব্যক্তি টাকা তুলত। এমন তথ্যই মিলেছে। তারপর তদন্তের আরও গভীরে যেতেই বড় চক্র কাজ করছে বলে হদিশ মেলে। এই চক্র যে কয়েক বছর ধরে চলছে সেটার প্রমাণ পেল এসিবি। সঞ্জীব যে কাজ করত সেটার পিছনে অনেক চক্র আছে বলে জানা গিয়েছে। এই চক্রের উৎসস্থল হুগলির ডানকুনি এমন তথ্যই মিলেছে। কেমন করে গোটা চক্রটি কাজ করত সেটার একটি রূপরেখাও এসিবি’র পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। ডানকুনিতে আসা ট্রাকগুলিকে নো-এন্ট্রি থাকার সময় টাকা নিয়ে শহরে ঢোকানো হতো। এভাবেই ট্রাক চালকরা নির্বিঘ্নে ঢুকে পড়ত। ডানকুনিতে ছাড়পত্র মেলা ট্রাক যাতে শহর এবং শহরতলিতে সহজে ঢুকতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা থাকত।
এই গোটা বিষয়টি পরিচালনা করার জন্য একটা দল কাজ করত। এখানে একটি পদ আছে। যার পোশাকি নাম গাইড। এই গাইডদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গাইড সর্বত্র ছড়িয়ে থাকত। সেটা শহরেই হোক কিংবা ডানকুনিতে। নো-এন্ট্রি থাকার পরও সেখানে কেমন করে ট্রাক নিয়ে যেতে হবে এবং কত টাকা দিতে হবে সব তারা বাতলে দিত। এমনকী সমস্যায় পড়লে নির্দিষ্ট একটি ফোন নম্বরে ফোন করলেই কাজ সহজ হয়ে যাবে বলেও জানিয়ে দিত তারা। তবে এই কাজের জন্য তাদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দিতে হতো ট্রাক চালকদের। কোনও কাজই তো আর বিনামূল্যে হয় না। এমনটাই বলা হতো।
এই ফোন নম্বর যা দেওয়া হতো ট্রাক চালকদের তা শুধু সমস্যায় ফোন করার জন্য নয়। টাকার লেনদেনও হতো। নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার জন্য ট্রাকপিছু ২০০০-২৫০০ টাকা নেওয়া হতো। আর সেটা নগদ, ইউপিআই, সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার যে কোনও পন্থায় দেওয়া যায়। সেই টাকা অপারেটরের হাতে পৌঁছলেই নো-এন্ট্রিতে এন্ট্রির ছাড়পত্র মিলে যায়। এই অপারেটর হলো দ্বিতীয় পদ। গাইড এবং অপারেটরের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় থাকত। গোটা বিষয়টি চেইন সিস্টেমে চলে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। আর তাই এই গোটা চক্রকে ধরার জন্য তদন্তে নেমেছে এসিবি বলে সূত্রের খবর।




