ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। কিন্তু তারপরও বহু যোগ্য মহিলা আর্থিক সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ। তাই কেউ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, কেউ ঘেরাও, পথ অবরোধ, রেল অবরোধের পথকে বেছে নিয়েছিলেন। এমনকী মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়েও দরবার করেছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, সকল যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাবেন। কেউ বঞ্চিত হবেন না। এই ভাইটার উপর ভরসা রাখুন। মহিলারা ভরসা রেখেছেন। আর তারপরই মঙ্গলবার জানতে পারলেন সুখবর।
১ সেপ্টেম্বর তারিখে অনেকে চিন্তা করছেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেলে সংসারের কিছু কাজ করবেন। কিন্তু কবে মিলবে টাকা? এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে আরও আগেই যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে আরও আগে। মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ব্যাঙ্কে ট্রান্সফার হয়ে যাবে টাকা। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আপনাদের কারও কাছে যেতে হবে না। ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে।’ এই খবর এখন সমাজমাধ্যমে চাউর হয়ে গিয়েছে। তাতে বেশ খুশি মহিলারা।
অন্নপূর্ণা যোজনা পেতে যাঁরা পরে আবেদন করেছেন তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেগুলি পরীক্ষা করা হয়ে গেলে সেইসব মহিলারাও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। যাঁরা যোগ্য হয়ে টাকা পাচ্ছেন না অথবা পাননি তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে স্থানীয় মহিলা মোর্চা নেতৃত্বদের কাছে যান। প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে নিজেদের মধ্যে একটা গ্রুপ তৈরি করে নিন অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য। যাতে আগামী দিনে মহিলাদের অধিকার এবং মহিলাদের উপর কোনও অত্যাচার-অবিচার হলে আপনারা মা-বোনদের পাশে দাঁড়াতে পারেন।’
তাছাড়া মহিলাদের নগদ অর্থ হস্তান্তর প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪৮,০০০ কোটি টাকা করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন, ‘রাজ্যের সমস্ত যোগ্য নারীদের এই প্রকল্পের আওতায় আনতে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র বার্ষিক বরাদ্দ ৩৬,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮,০০০ কোটি টাকা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘উপভোক্তার সংখ্যা বাড়তে থাকায় নগদ হস্তান্তর প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক বাজেটে বরাদ্দ করা ৩৬,০০০ কোটি টাকা পর্যাপ্ত হবে না। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর। বাজেটে আমরা ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলাম। কিন্তু তা যথেষ্ট হবে না। এই প্রকল্প সচল রাখতে বার্ষিক ৪৮,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যে ১.৪৫ কোটি নারীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১৪ লাখ আবেদনের যাচাইয়ের কাজ চলছে। যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন।’




