সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যবিমা এবং পেনশন নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। যা সাংবাদিকদের জীবনে বড় সুরক্ষা হিসাবে দেখা দিল। শুধু তাই নয়, সর্বস্তরের সমস্ত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরাই উপকৃত হবেন এমন ঘোষণাই করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধুমাত্র মাঠে ময়দানে যাঁরা রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন তাঁরাই নন, নতুন সরকারের ঘোষণার ফলে উপকৃত হবেন নিউজ ডেস্কে বসে যাঁরা কাজ করেন তাঁরাও। রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সব সাংবাদিকরা পেনশন পাবেন। আবার এখন যাঁরা কর্মরত তাঁরা দুর্গাপুজোর আগে পাবেন বোনাস।
মঙ্গলবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, রাজ্যের সব সাংবাদিক মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে রাজ্যের ১৭০০ হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পেতেন সাংবাদিকরা। এখন আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে রাজ্যের ১৯০০ হাসপাতালে সাংবাদিকরা চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।’
রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সব সাংবাদিকরা পেনশন বাবদ পাবেন ৫০০০ হাজার টাকা। আগের সরকারের আমলে যা ছিল ২৫০০ টাকা। সেক্ষেত্রে দ্বিগুণ করা হলো এই পেনশন। সাংবাদিকরা সপরিবার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। এদিন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে প্রতীকী সেই কার্ড তুলেও দেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড আছে আগে তাঁরাই পেনশন স্কিমের আওতায় ছিলেন। সুতরাং সংখ্যাটাও খুব কম। যাঁরা ডেস্কের সাংবাদিক, তাঁরা বছরের পর পর সংবাদমাধ্যমে কাজ করলেও সরকারি সুবিধা পেতেন না। তাঁদের জন্যই এবার বড় উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কেমন উপহার পাবেন সাংবাদিকরা? এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিদের এবং বর্ষীয়ান সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এবার থেকে অসংগঠিত মাধ্যমে কাজ করা, নিউজ ডেস্কে কর্মরত তথা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডহীন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মে এই ৫,০০০ টাকা পেনশনের আওতায় আসবেন। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বোনাস সরকারি আর্থিক সহায়তায় জেলা এবং কলকাতার মধ্যে বৈষম্য সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো। আগে কলকাতার সাংবাদিকরা ২,০০০ টাকা এবং জেলার সাংবাদিকরা ১,০০০ টাকা পেতেন। এখন থেকে আবেদনকারী সমস্ত সাংবাদিককে সমপরিমাণ ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় সকল শ্রেণির সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যম কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পে সব শ্রেণির সংবাদমাধ্যম কর্মীরা আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁদের নির্বাচন করা হবে। যোগ্য কোনও সাংবাদিককে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। সংবিধানে বাকস্বাধীনতা থাকলেও নেশন ফার্স্ট নীতি আমাদের বজায় রাখতে হবে। দেশ দুর্বল হয় বা ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে এমন কোনও শব্দ বা ভাষা প্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত। সমালোচনা করবেন, গঠনমূলক আলোচনাও করবেন। প্রয়োজনে দেখা করতে আসবেন। তবে দেশপ্রেমের প্রশ্নে সকলে কঠোর নীতি নিয়ে চলবেন।’




