• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, বিপদে পড়তে পারে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো শহর, জানাল রাষ্ট্রসঙ্ঘ

রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার নিচু ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং কলকাতা, মুম্বাই ও ঢাকার মতো শহরগুলি সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়তে পারে

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে,  বিপদে পড়তে পারে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো শহর, জানাল রাষ্ট্রসঙ্ঘ

Image: IANS

২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত (Nepal Flash Flood) সীমান্তে ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এখনও পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ৯০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর (Nepal Flash Flood)। এরই মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী কলকাতা, মুম্বাই-সহ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক নিচু এলাকা বিপদ সীমায় রয়েছে।  জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এর জেরে কলকাতা ও মুম্বাই-সহ দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে রাষ্ট্রসঙ্ঘের (United Nations Report) একটি নতুন রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে (United Nations Report) বলা হয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ ও বরফের স্তর গলছে এবং সমুদ্রের জল উষ্ণ হয়ে প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৪ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের বার্ষিক উচ্চতা বৃদ্ধি পায় ৬ মিলিমিটার। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন: চারটি এক্সকাভেটর ও একটি ব্রেকার থাকলেই যথেষ্ট ছিল, ত্রিশূলী-৩এ টানেলে উদ্ধার নিয়ে ক্ষোভ নেপালি ইঞ্জিনিয়ারের

রিপোর্ট (United Nations Report)  অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার নিচু ব-দ্বীপ অঞ্চল এবং কলকাতা, মুম্বাই ও ঢাকার মতো শহরগুলি সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়তে পারে। এই সব অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়লে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ অবিলম্বে নিজেদের ঘরবাড়ি হারাতে পারে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি ঠিক কবে ভয়াবহ আকার নেবে, তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সমসসীমা জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সহকারী মহাসচিব নাভিদ হানিফ (Assistant Secretary-General Navid Hanif) জানিয়েছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি শুধুমাত্র উপকূলবর্তী এলাকার সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়বে মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবাধিকার, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ে উপরও। বহু মানুষ তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারাতে পারেন।

আরও পড়ুন: হড়পা বানের ৩ মাস আগেই চিনের কাছে তথ্য চেয়েছিল নেপাল, ‘সময়মতো তথ্য দেওয়া হয়েছিল’ দাবি বেজিংয়ের

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ কোটি মানুষ অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় প্রতি ১০ জনে একজন, এমন উপকূলীয় এলাকায় বাস করেন যা জোয়ারের উচ্চসীমা থেকে পাঁচ মিটারেরও কম উঁচুতে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পরিকাঠামো ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

রিপোর্টে (United Nations Report) আরও বলা হয়েছে, সমুদ্রের জল বাড়লে শহরের রাস্তা, ভবন, জল সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহণ, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো এবং ভূগর্ভস্ত জলের উপর প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে হিমালয়ের হিমবাহ গলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমে ভয়াবহব বন্যা এবং পরে খরা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাও বড়সড় সঙ্কটে পড়তে পারে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের (United Nations Report) বার্তা স্পষ্ট-সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি শুধু পরিবেশগত সমস্যা তৈরি করবে না বরং একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট তৈরি করবে। তাই সেই সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারকে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

দেখুন: